মো. মনিরুল ইসলাম তালুকদার (নাটোর): সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার দুই প্রবাসী শ্রমিকের মরদেহ দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে তাঁদের মরদেহ নিজ নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। পরে জানাজা শেষে একই কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
নিহতরা হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের মো. জাকের আলীর ছেলে শামীম হোসেন (৩৫) এবং খাজুরা গ্রামের মো. রাব্বি হোসেনের ছেলে সাব্বির হোসেন (৩৮)।
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁরা মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাঁদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শামীম হোসেনের মরদেহ নিজ বাড়িতে নেওয়ার পর বিকেল ৪টার দিকে দিঘীরপাড় মাদ্রাসা মসজিদ মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে, সাব্বির হোসেনের জানাজা বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে খাজুরা দাখিল মাদ্রাসা মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের দুজনের মরদেহ ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামীম হোসেন জানাজায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাম্মী আক্তারের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফনের জন্য পরিবার দুটিকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে মোট সাতজন বাংলাদেশি নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের বাড়ি নওগাঁ জেলায় এবং বাকি দুজনের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বলে জানা গেছে।
নিহতদের জানাজায় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বুলবুলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন।
প্রিয়জনকে হারিয়ে দুই পরিবারে চলছে শোকের মাতম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বজনদের মরদেহ ফিরে পেয়ে শেষবারের মতো বিদায় জানান পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী।

