আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসব। শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রীমঙ্গল জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ উৎসবে কবীর ও লালনের মরমি সংগীত উপভোগ করেন পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় লালন বিশ্বসংঘ আয়োজিত এ উৎসবে ঢাকা থেকে আসা কবীর-লালন মিউজিক্যাল মিশনের ১০ জন গুণী ভাবসংগীতশিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন।
শ্রীমঙ্গলের কৃতী লেখক ও গবেষক অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাশ উৎসবের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীর প্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।
আবদুল মান্নানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী অনিরুদ্ধ দাস।

উৎসবে শিল্পীদের পরিবেশনায় কবীর ও লালনের মানবতাবাদী, অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তচিন্তার দর্শনভিত্তিক ভাবসংগীত পরিবেশিত হয়। মরমি গানের বাণী ও সুরে দর্শক-শ্রোতারা উপভোগ করেন এক ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন।
গত ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়েছিল। এরপর দেশের সাতটি বিভাগে ধারাবাহিকভাবে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী কবীর-লালন ভাবসংগীত উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের মতে, কবীর ও লালনের দর্শন, মানবতাবাদ, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং মরমি সংগীতের ঐতিহ্য মানুষের কাছে তুলে ধরাই এ উৎসবের মূল লক্ষ্য। সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

শ্রীমঙ্গলে প্রথমবারের মতো এ ধরনের ভাবসংগীত উৎসব স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পাঁচ শতাধিক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতিতে রাত ১০টায় উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে।

