সর্বশেষ :
31 Oct 2026, Sat

শ্রীমঙ্গলে ৩৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, চা শিল্পের জন্য আশীর্বাদ

শ্রীমঙ্গলে ৩৫.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, চা শিল্পের জন্য আশীর্বাদ

আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): টানা ২০ দিন পর শ্রীমঙ্গলের চা শিল্পাঞ্চলে ৩৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টা ২০ মিনিটে এ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন থাকার পর এ বৃষ্টি চা শিল্পের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। বৃষ্টির ফলে চা গাছে নতুন পাতা গজানো, দুর্বল গাছগুলো সতেজ হয়ে ওঠা এবং মাটির আর্দ্রতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে শ্রীমঙ্গলে সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল। সেদিন বৃষ্টির পরিমাণ ছিল মাত্র ২ দশমিক ২ মিলিমিটার। এরপর দীর্ঘ ২০ দিন বৃষ্টির দেখা মেলেনি। অবশেষে বুধবার দিবাগত রাতে ৩৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ শামীম আল মামুন বলেন, এ বৃষ্টি চা শিল্পের জন্য খুবই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে। বৃষ্টির ফলে চা গাছে নতুন পাতা গজাবে, দুর্বল গাছগুলো সতেজ হয়ে উঠবে এবং মাটির আর্দ্রতা বাড়বে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় চা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ বৃষ্টি গাছের বৃদ্ধি ও নতুন পাতা গজানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, চা বাগানমালিকরা চলতি মৌসুমে যে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের আশা করছেন, তা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাগানের যথাযথ পরিচর্যার ওপরও উৎপাদন নির্ভর করবে।

চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চা উৎপাদনের ক্ষেত্রে অনুকূল আবহাওয়া ও মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। এতে চা গাছের নতুন কুঁড়ি ও কচি পাতার বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। ফলে পাতা সংগ্রহের পরিমাণেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় বৃষ্টিপাত চা বাগানের জন্য স্বস্তিদায়ক পরিবেশ তৈরি করে।

বর্তমানে চা শিল্পে ভরা মৌসুম চলছে। এ সময়ে বাগানে পর্যাপ্ত কচি পাতা উৎপাদন ও নিয়মিত পাতা সংগ্রহ চা উৎপাদনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ বিরতির পর বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন পাতা গজালে চা পাতা সংগ্রহের কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকার বিস্তীর্ণ চা বাগান দেশের চা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এসব বাগানে চায়ের উৎপাদন ও গুণগত মান বজায় রাখতে অনুকূল আবহাওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শুষ্ক আবহাওয়ার পর বৃষ্টিপাত চা গাছের সতেজতা ফিরিয়ে আনতে এবং মাটির আর্দ্রতা বাড়াতে সহায়তা করে।

দীর্ঘ ২০ দিন পর ৩৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত চা বাগানগুলোতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এখন অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে চা গাছে নতুন পাতা গজানো ও পাতা সংগ্রহ বাড়ার মধ্য দিয়ে চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে বলে আশা করছেন চা শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *