মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ব্যবহৃত একটি গ্রামীণ কাঁচা রাস্তা জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাস্তার ওপর গাছের খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয় কয়েকটি পরিবারসহ প্রায় চার-পাঁচটি গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় গত ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুক্তভোগী ইজাজুল হক বাদী হয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রামদী ইউনিয়নের আগরপুর পূর্বপাড়া গ্রামে ব্র্যাক অফিস থেকে দক্ষিণ দিকে যাতায়াতের একটি পুরোনো কাঁচা রাস্তা দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চার-পাঁচটি গ্রামের মানুষ চলাচল করে আসছেন। কিন্তু গত ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে একই এলাকার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. আসিফ মিয়া (৫৫) ওই রাস্তার মাঝখানে পাঁচটি গাছের খুঁটি পুঁতে চলাচলের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে বাদী ইজাজুল হকের তিনটি লেয়ার মুরগির খামারে খাদ্য ও প্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়াসহ দৈনন্দিন যাতায়াতে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর বাধ্য হয়ে আইনি সহায়তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে ইজাজুল হকের প্রবাসফেরত বাবা মো. জালাল উদ্দিন (৬৩) জানান, রাস্তাটি দেখেই তিনি তাঁর শ্বশুরবাড়ির এলাকা আগরপুর পূর্বপাড়ায় জমি কিনে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। ছয় বছর মালয়েশিয়া এবং দীর্ঘ ২০ বছর সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটিয়ে প্রায় দুই বছর আগে ওই জমিতে তিনটি লেয়ার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা সেগুলোর পরিচর্যা করছেন।
তিনি দাবি করেন, তাঁর ক্রয়কৃত সম্পত্তি ও বিবাদী আসিফ মিয়ার সম্পত্তির ওপর দিয়ে প্রায় ৫০ বছর আগে একটি গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করা হয়। সেই রাস্তা দিয়ে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলাচল করে আসছেন। এত দিন এ রাস্তা নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ বা সমস্যা ছিল না। হঠাৎ কোনো ধরনের বিরোধ ছাড়াই কেন দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত রাস্তাটিতে পাঁচটি গাছের খুঁটি পুঁতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। এ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন। অবিলম্বে রাস্তা থেকে খুঁটিগুলো অপসারণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আসিফ মিয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমাদের জায়গায় আমি খুঁটি পুঁতেছি। এ নিয়ে সালিশ-দরবারের কী আছে?
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ভুক্তভোগী ইজাজুল হকের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

