সর্বশেষ :
1 Nov 2026, Sun

গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে ছোট যমুনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ

গ্রামবাসীর অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে ছোট যমুনা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ

আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ধরঞ্জী ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামে ছোট যমুনা নদীর ওপর গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মাণ করা হচ্ছে একটি সরু ব্রিজ। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘবের আশায় নিজেদের উদ্যোগে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করলেও অর্থসংকটে এখনো তা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ব্রিজটি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না এলাকাবাসী। অসমাপ্ত ব্রিজটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে সরকারি সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

বাগজানা ও আটাপাড়া ব্রিজের মাঝামাঝি রতনপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ছোট যমুনা নদী। নদীর দুই পাড়ে রয়েছে অসংখ্য মানুষের বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বেড়ে গেলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। নদীর ওপারে থাকা জমিতে যাতায়াত, ফসল আনা-নেওয়া এবং বাজারে যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হয়।

এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন এলাকাবাসী। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ না পাওয়ায় অবশেষে গ্রামের মানুষ নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ইতোমধ্যে নদীর ওপর কয়েকটি কংক্রিটের পিলার নির্মাণ করে সেগুলোর ওপর বাঁশ ও কাঠের কাঠামো দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা তৈরির কাজ চলছে। তবে অর্থের অভাবে নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে।

রতনপুর গ্রামের কৃষক কেরামত আলী বলেন, নদীর ওপারে আমাদের অনেক ফসলি জমি রয়েছে। বর্ষাকালে নদীতে পানি বেড়ে গেলে জমিতে যেতে কিংবা ফসল কেটে ঘরে তুলতে অনেক দূর ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও সম্মুখীন হতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকেই আমরা এ দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। তাই গ্রামের সবাই মিলে টাকা তুলে নিজেদের শ্রমে ব্রিজটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। কিন্তু টাকার অভাবে কাজ শেষ করতে পারছি না। সরকার যদি একটু সহযোগিতা করত, তাহলে আমাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর হতো।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। নদী পার হয়ে ওপারে বাজার ও কৃষিজমিতে যেতে হয়। বর্ষাকালে আমাদের অনেক ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ হয়নি। তাই গ্রামের মানুষ নিজেরাই টাকা তুলে অন্তত মানুষের চলাচলের জন্য একটি সরু ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। ব্রিজটি সম্পন্ন করতে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নদীর ওপর অসমাপ্ত ব্রিজটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় অর্থসহায়তার উদ্যোগ নেবে। এতে রতনপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে এবং কৃষিকাজ ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *