সর্বশেষ :
1 Nov 2026, Sun

কুলিয়ারচরে চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধ: কৃষকের বাড়িতে তাণ্ডব, চার ঘর ও অর্ধশতাধিক গাছ কুপিয়ে তছনছ, লুটপাটের অভিযোগ

কুলিয়ারচরে চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধ: কৃষকের বাড়িতে তাণ্ডব, চার ঘর ও অর্ধশতাধিক গাছ কুপিয়ে তছনছ, লুটপাটের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: পূর্ব থেকেই দুই পরিবারের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। সেই বিরোধের জেরে নতুন করে একটি চালতা পাড়া নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে এক কৃষকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে একটি রান্নাঘরসহ চারটি ঘর কুপিয়ে তছনছ, ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ভাঙচুর এবং বাড়ির আঙিনা ও আশপাশের অর্ধশতাধিক ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার পর ঘরে ব্যবহারযোগ্য জিনিসপত্র বলতে প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই। একই সঙ্গে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও নলকূপ লুটের অভিযোগও করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

গত ২৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নের হাড়িয়াকান্দা গ্রামে মো. অলিনেওয়াজের ছেলে কৃষক মো. জয়নাল মিয়ার বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জয়নাল মিয়ার চাচা আ. ওয়াদুদের পরিবারের সঙ্গে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। বুধবার জয়নালের বাড়ির একটি চালতা গাছ থেকে আ. ওয়াদুদের পরিবারের লোকজন চালতা পাড়লে এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়ার সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনার কিছুক্ষণ পরই একদল যুবক জয়নালের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়।

জয়নাল মিয়ার অভিযোগ, হাতিম মিয়ার ছেলে আসাদুল্লাহ (২৮) ও আফজালের (২৫) নেতৃত্বে ৮-৯ জন যুবক রামদা, রড, হকিস্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে। এরপর চারটি ঘরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর মধ্যে একটি রান্নাঘরও রয়েছে।

ঘরের টিনের বেড়া কুপিয়ে ছিন্নভিন্ন করা হয়েছে, ভেঙে ফেলা হয়েছে দরজা-জানালা। ঘরের ভেতরের কাপড়চোপড়, সেলাই মেশিন, কাগজপত্র, চাল-ডালসহ বিভিন্ন সামগ্রী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলা হয়েছে। রান্না করা ভাত-তরকারিও মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য, হামলাকারীরা ঘরের এমন কোনো অংশ প্রায় বাদ রাখেনি, যেখানে ভাঙচুরের চিহ্ন নেই।

শুধু ঘরেই থেমে থাকেনি হামলা। জয়নালের অভিযোগ, বাড়ির আঙিনা ও আশপাশে থাকা অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে পেঁপে, নারিকেল, আম, জাম, লিচু, অর্জুনসহ বিভিন্ন ফলজ ও অন্যান্য গাছ রয়েছে। বহুদিন ধরে বেড়ে ওঠা এসব গাছ কেটে ফেলায় বাড়ির চারপাশের চেহারাও বদলে গেছে। সরেজমিনে বাড়ির বিভিন্ন স্থানে কাটা গাছ ও ডালপালা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের তৈরি চারটি ঘরই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও টিনের বেড়া ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কাটা, কোথাও বড় বড় ছিদ্র। দরজা-জানালায়ও ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। ঘরের ভেতর মেঝেজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে কাপড়চোপড়, কাগজপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জিনিসপত্র। ভাঙচুরের পর ঘরগুলোর ভেতরের চিত্র যেন একটি পরিবারের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে এলোমেলো করে দেওয়ার সাক্ষ্য দিচ্ছে।

জয়নালের স্ত্রী কামরুন্নাহার (৩২) বলেন, হামলার সময় তিনি মেয়েদের নিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বাড়িতে ফিরে দেখেন, ঘরের সবকিছু তছনছ হয়ে আছে। রান্না করা খাবার, চাল-ডাল, কাপড়চোপড়সহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে।

জয়নাল মিয়া আরও দাবি করেন, হামলাকারীরা ঘরে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। তাঁর দাবি, এনজিও থেকে উত্তোলন করা দুই লাখ টাকাসহ প্রায় পৌনে ছয় লাখ টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ির নলকূপও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক মো. জয়নাল মিয়া (৪১) গত ৩০ অক্টোবর শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাদী হয়ে একই বাড়ির মো. হাতিম (৫২), মো. আসাদুল্লাহ (২৮), মো. আফজাল মিয়া (২৩) ও নুর মাহাম্মদ (৪৫) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে হাতিম মিয়া হামলার ঘটনা অস্বীকার না করে বলেন, বুধবার জয়নাল তাঁর বাবাকে মারধর করেছিলেন। এ কারণে তাঁর ছেলেরা জয়নালের বাড়িতে গিয়েছিল। তিনি তাঁদের বাধা দিতে গিয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কৃষক মো. জয়নাল মিয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *