বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরি নদী থেকে মংচেসা মার্মা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মংচেসা মার্মা লামা উপজেলার ১ নম্বর গজালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিনঝিরি পাড়ার মৃত পাইংসাউ মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় বন্যহাতি ও বন্যশূকরের উপদ্রব থেকে বাগান ও ফসল রক্ষায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাগানে হাতি তাড়ানোর জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে মংচেসা মার্মার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে ওই বাগানের মালিক আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয়রা মাতামুহুরি নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশে পানিতে মংচেসা মার্মার মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে বিষয়টি লামা থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তৈয়ব বলেন, মাতামুহুরি নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের দিকে মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, মাতামুহুরি নদীতে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি বান্দরবান সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তিনি আরও জানান, হাতি তাড়ানোর জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মংচেসা মার্মার আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার ও পুরো মিনঝিরি পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হাতি তাড়ানোর জন্য স্থাপন করা বৈদ্যুতিক ফাঁদের সঙ্গে এ মৃত্যুর কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।

