সর্বশেষ :
8 Nov 2026, Sun

কুলিয়ারচরে শিক্ষক আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, কলেজে টানা ৩ বছর পাস করেনি কেউ!

কুলিয়ারচরে শিক্ষক আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, কলেজে টানা ৩ বছর পাস করেনি কেউ!

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): টানা তিন বছর এইচএসসি পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে না পারার সমালোচনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আর্থিক প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নিয়ে ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে মো. আবুল কাসেম নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালত এ পরোয়ানা জারি করেছেন।

অভিযুক্ত আবুল কাসেম কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকার ‘আবুল কাসেম স্কুল অ্যান্ড কলেজ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও এডহক কমিটির সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ছয়সূতি জনতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর বাজারের বাসিন্দা মো. মুক্তার মিয়া বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জের আমলি গ্রহণকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৫-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নম্বর সিআর ৮৮(৪)/২০২৬।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে আবুল কাসেম বাদীর কাছ থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ধার নেন। সে সময় লিখিত স্ট্যাম্পে ঋণ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকারও করেন তিনি। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেননি অভিযুক্ত শিক্ষক।

পরবর্তীতে পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বাদী মুক্তার মিয়া। একপর্যায়ে আবুল কাসেমের বাড়িতে গিয়ে টাকা চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি লিখিত স্ট্যাম্পে টাকা নেওয়ার স্বীকারোক্তি থাকা সত্ত্বেও তিনি তা অস্বীকার করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা করা হলে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে আর্থিক প্রতারণার মামলার পাশাপাশি আবুল কাসেমের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শোচনীয় একাডেমিক ফলাফল নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। প্রতিষ্ঠানটির এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৪ সালে এ প্রতিষ্ঠান থেকে দুজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। ২০২৫ সালে ছয়জন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়। এ ছাড়া ২০২৬ সালে সাতজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

অর্থাৎ, গত তিন বছরে প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ১৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা তিন বছর কোনো শিক্ষার্থী পাস না করার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদানের মান, শিক্ষকদের কার্যক্রম, নিয়মিত উপস্থিতি এবং প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

মামলা ও কলেজের ফলাফলের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক আবুল কাসেমের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে তা প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ধারাবাহিক বিপর্যয়কর ফলাফল এবং এর প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে সমালোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *