৯ মাসে উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ কেজি, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বাকি ৩ কোটি ২৩ লাখ কেজি
আতাউর রহমান কাজল, শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার): দেশে চা উৎপাদনে ১৭২ বছরের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) দেশে চা উৎপাদিত হয়েছে ৭ কোটি ১৬ লাখ ৭১ হাজার কেজি। গত বছরের একই সময়ে উৎপাদন হয়েছিল ৬ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার কেজি। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চা উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজার কেজি, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের ‘মান্থলি স্ট্যাটিস্টিক্যাল বুলেটিন’-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উৎপাদিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬৮ দশমিক ৯১ শতাংশ। বাকি তিন মাসে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হলে আরও ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন করতে হবে। অর্থাৎ অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর—এই তিন মাসে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৭৬ হাজার কেজি চা উৎপাদন প্রয়োজন।
গত বছরের শেষ তিন মাসের উৎপাদন পর্যালোচনা করলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ১ কোটি ৪৫ লাখ ২৬ হাজার, নভেম্বরে ১ কোটি ১ লাখ ৭০ হাজার এবং ডিসেম্বরে ৯২ লাখ ৬৪ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছিল। এই তিন মাসে মোট উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৬০ হাজার কেজি। চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে যে পরিমাণ চা উৎপাদন প্রয়োজন, তা গত বছরের একই সময়ের উৎপাদনের চেয়ে ১৬ লাখ ৩১ হাজার কেজি কম।

চা বোর্ডের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে দেশে চা উৎপাদিত হয়েছিল ৫ লাখ ৭৩ হাজার কেজি। ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার, মার্চে ২৫ লাখ ৫৮ হাজার, এপ্রিলে ৫৯ লাখ ১৮ হাজার, মে মাসে ৯১ লাখ ৫৩ হাজার, জুনে ১ কোটি ২৪ লাখ ৫ হাজার, জুলাইয়ে ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার, আগস্টে ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৯ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৫৭ হাজার কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। মাসভিত্তিক উৎপাদনের এই হিসাবেও বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে উৎপাদনের গতি বাড়ার চিত্র পাওয়া যায়।
দেশে এর আগে সর্বোচ্চ চা উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ২০২৩ সালে। ওই বছর উৎপাদিত হয়েছিল ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি চা। ২০২৬ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি, যা আগের রেকর্ডের চেয়ে ১০ লাখ ৮২ হাজার কেজি বেশি। ফলে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশের চা উৎপাদনে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে এবং চা শিল্পের ১৭২ বছরের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়বে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট চা উৎপাদিত হয়েছিল ৯ কোটি ৪৯ লাখ ২৭ হাজার কেজি। ২০২৪ সালে উৎপাদন ছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। অন্যদিকে, ২০২৩ সালে উৎপাদন ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজিতে পৌঁছেছিল। এসব পরিসংখ্যান দেশের চা উৎপাদনে বছরভিত্তিক ওঠানামার পাশাপাশি চলতি বছরের অগ্রগতিও তুলে ধরে।
চা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, বছরের প্রথম নয় মাসে উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং গত বছরের শেষ তিন মাসের উৎপাদনের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় চলতি বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শেষ তিন মাসের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত, চা গাছে কুঁড়ি গজানোর পরিস্থিতি এবং বাগান ও কারখানার কার্যক্রমের ওপর চূড়ান্ত উৎপাদন নির্ভর করবে। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ২০২৬ সালেই দেশের চা উৎপাদনে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে বাংলাদেশ।

