সর্বশেষ :
26 Oct 2026, Mon

দোহারে আইড় মাছের পেটে মিলল নাটবল্টু ও লোহার খণ্ড

দোহারে আইড় মাছের পেটে মিলল নাটবল্টু ও লোহার খণ্ড

দোহার (ঢাকা): মাছের পেটে ডিম পাবেন, এমনটাই ভেবেছিলেন গৃহিণী সুইটি আক্তার। কিন্তু মাছ কাটতেই বেরিয়ে আসে একটি নাটবল্টু ও দুটি মসৃণ লোহার খণ্ড। অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় বিস্মিত হওয়ার পাশাপাশি মাছের ওজন বাড়াতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বস্তু ঢুকিয়েছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে তাঁর মনে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ঢাকার দোহার উপজেলার থানার মোড় মাছবাজার থেকে কেনা একটি আইড় মাছের পেট থেকে এসব লোহার বস্তু পাওয়া যায়। পরে মাছ ও লোহার খণ্ডগুলো নিয়ে দোহার থানায় মৌখিক অভিযোগ করেন সুইটি আক্তার।

সুইটি আক্তার উপজেলার বটিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, রোববার সকালে থানার মোড় মাছবাজার থেকে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে ১ কেজি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি আইড় মাছ কেনেন। বাড়িতে মাছটি কাটার সময় এর পেট থেকে একটি ছোট নাটবল্টু ও দুটি ছোট লোহার খণ্ড বেরিয়ে আসে। তিনটি বস্তুর মোট ওজন প্রায় ৫০ গ্রাম।

সুইটি আক্তার বলেন, ‘ভেবেছিলাম মাছের পেট থেকে বড় বড় ডিম বের হবে। কিন্তু বের হলো লোহার খণ্ড! মাছের পেটে এগুলো কীভাবে এলো, তা বুঝতে পারছি না।’

ঘটনাটি জানার পর দোহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন উপপরিদর্শক (এসআই) আশিকুরকে। পরে তিনি মাছ বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

অভিযুক্ত মাছ বিক্রেতা আকাশ প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি বান্দুরা বাজারের নিখিলের আড়ত থেকে মাছটি কিনে থানার মোড় বাজারে বিক্রি করেছেন। মাছের পেটে লোহার বস্তু থাকার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্রেতাকে মাছের পুরো দাম ফেরত দিয়েছেন তিনি।

পরে মুচলেকা নিয়ে বাজার কমিটির জিম্মায় মাছ বিক্রেতা আকাশকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বান্দুরা বাজারের আড়তদার নিখিলও মাছের পেটে লোহার বস্তু থাকার ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, গত দুই দিন ধরে রাঙামাটি থেকে আনা আইড় মাছ বিক্রি করছেন। তাঁর ধারণা, রাক্ষুসে স্বভাবের মাছটি খাবার ভেবে কোনো বস্তু গিলে ফেলতে পারে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থানার মোড় বাজারের নিয়মিত ক্রেতাদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ক্রেতা করিম বেপারী বলেন, ঘটনাটি শুনে অবাক হয়েছি। এটা মাছের স্বাভাবিক আচরণ, নাকি ওজন বাড়ানোর জন্য কেউ এমন প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

মাছটির পেটে লোহার বস্তুগুলো কীভাবে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাছের ওজন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বস্তু ঢুকিয়েছেন, নাকি মাছটি স্বাভাবিকভাবে সেগুলো গিলে ফেলেছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *