বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের দিগদাড়ী গ্রামে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা বাঁশের খুঁটি দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মৃত মতি মাস্টারের ছেলে টিটু মিয়ার বিরুদ্ধে। এতে মসজিদে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া, অসুস্থ রোগী বহন এবং কৃষিজমিতে যাতায়াতসহ নানা কাজে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত ওই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা চলাচলের ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে মসজিদে নামাজ আদায় করতে যাওয়া মুসল্লি, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগী বহনের ক্ষেত্রে সমস্যাটি গুরুতর হয়ে উঠেছে।
সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিগদাড়ী গ্রামের ওই রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে মানুষ চলাচল করে আসছেন। সম্প্রতি জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাস্তাটিতে বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এতে মসজিদে যাতায়াতের পথসহ আশপাশের ২০টি পরিবারের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা লেবু মিয়া জানান, টিটু মিয়ার ভাইয়ের জমি তাঁকে না দিয়ে অন্য এক প্রতিবেশীকে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে টিটু মিয়া পুরোনো রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত টিটু মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে চলে যান।
ভুক্তভোগীরা জানান, সমস্যাটি সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বৈঠকের আয়োজন করা হলেও টিটু মিয়া সেখানে উপস্থিত হননি বলে তাঁদের অভিযোগ। ফলে দীর্ঘদিনের এ সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এলাকার সচেতন মহল দ্রুত রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার পাশাপাশি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে প্রতিবেশীদের মধ্যে বিরোধ ও ঝগড়াবিবাদ আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মনোয়ারুল ইসলাম জানান, বিষয়টি তিনি লোকমুখে শোনার পর টিটু মিয়াকে দীর্ঘদিনের বহুল ব্যবহৃত রাস্তাটি খুলে দিতে বলেন। তবে এখনো রাস্তাটি খুলে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে থাকা ভুক্তভোগীরা সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের দাবি, জনসাধারণের চলাচলের পথ নিয়ে সৃষ্ট এ বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করে মসজিদে যাতায়াত, শিক্ষার্থীদের চলাচল এবং জরুরি প্রয়োজনে মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা হোক।

