আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): দীর্ঘ কর্মজীবনের পথ পেরিয়ে জীবনের নতুন এক অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে মানুষ যখন পেছন ফিরে তাকান, তখন অর্জন-প্রাপ্তির চেয়েও বেশি মনে পড়ে মানুষের মুখ, ভালোবাসা আর একসঙ্গে কাটানো অসংখ্য মুহূর্ত। দায়িত্বের শেষ হতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের সম্পর্কের তো কোনো অবসর নেই। এমনই এক আবেগঘন সন্ধ্যায় কর্মজীবনের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন জনতা ব্যাংক পিএলসি, শ্রীমঙ্গল শাখার ব্যবস্থাপক মো. সালাহ্ উদ্দিন।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ব্যাংকিং জীবনের কর্মময় অধ্যায় শেষ করে অবসরে যাওয়ার প্রাক্কালে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ব্যাংকিং পেশার পাশাপাশি তিনি ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন শ্রীমঙ্গলের সভাপতি এবং সাপ্তাহিক ধলাই পত্রিকার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সৈয়দ আবুজাফর সালাউদ্দিনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে আবেগের উপস্থিতিই ছিল বেশি। স্মৃতিচারণ, শুভকামনা আর ভালোবাসার কথায় সন্ধ্যাটি হয়ে ওঠে এক বিশেষ মিলনমেলা।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত সালাহ্ উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এই মুহূর্তটি আমার জীবনের বিশেষ একটি আবেগঘন মুহূর্ত। দীর্ঘ কর্মজীবনের পথচলা শেষে পেশাগত জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ের শুরু ও সমাপ্তি থাকলেও কিছু সম্পর্ক, স্মৃতি এবং মানুষের ভালোবাসা কখনো শেষ হয় না।’
তিনি বলেন, ‘চাকরি মানুষকে পরিচয় দেয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা মানুষকে স্মরণীয় করে রাখে। কর্মজীবনে অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, অনেকের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্ক আমার জীবনের অন্যতম মূল্যবান অর্জন।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, দাপ্তরিক দায়িত্বের সমাপ্তি ঘটলেও গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো সমাপ্তি ঘটবে না। সাংবাদিকদের লেখনী, ক্যামেরা ও কণ্ঠের মাধ্যমে সত্য, ন্যায় এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
কথার একপর্যায়ে যেন ফিরে তাকান ফেলে আসা দিনগুলোর দিকে। তাঁর ভাষায়, পথচলায় হয়তো প্রতিদিন দেখা হবে না, কিন্তু আপনাদের সঙ্গে কাটানো সময়, স্মৃতি ও ভালোবাসা আমার হৃদয়ে চিরদিন অমলিন হয়ে থাকবে।
কর্মজীবনে তাঁর কোনো কথা, আচরণ কিংবা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সবার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা, সম্মান ও ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগমিশ্রিত কণ্ঠে তাঁর উপলব্ধি, ‘বিদায় মানে বিচ্ছেদ নয়, বিদায় মানে নতুন অধ্যায়ের সূচনা। দূরত্ব বাড়তে পারে, কিন্তু আন্তরিকতা ও ভালোবাসা কখনো দূরে সরে যায় না।’
সভায় বক্তারা মো. সালাহ্ উদ্দিনের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য ব্যাংকিং জীবন, পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা এবং শ্রীমঙ্গলের মানুষের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন শ্রীমঙ্গলের সাধারণ সম্পাদক ও স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মুনিরুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরাও তাঁদের অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও শুভকামনা ব্যক্ত করেন।
সভায় শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মজীবনের ক্যালেন্ডারে হয়তো এবার শেষ হতে যাচ্ছে ব্যাংকার সালাহ্ উদ্দিনের নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্বের দিনগুলো। কিন্তু মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিকতার যে বন্ধন, তা কোনো অবসর আদেশে শেষ হওয়ার নয়। কর্মস্থলের পরিচিত টেবিল, প্রতিদিনের ব্যস্ততা আর দায়িত্বের পরিসর বদলে যাবে; তবে শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক ও শুভানুধ্যায়ীদের সঙ্গে কাটানো সময়ের স্মৃতিগুলো থেকে যাবে হৃদয়ের পাতায়।

