কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ): সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার চৌবাড়ী ২০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ শেষে ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু তিন বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ভবন ও অবকাঠামো নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫০ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত হাসপাতালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শেষ করে ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ভবনটি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এতে ভূমি অধিগ্রহণসহ মোট ব্যয় হয় ১৯ কোটি ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৪৪ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। পুরো চত্বর আগাছা ও ময়লায় ভরে গেছে। হাসপাতালের পাশাপাশি চিকিৎসক-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য পাঁচটি ভবন এবং অ্যাম্বুলেন্স, যানবাহন ও জেনারেটর রাখার জন্য পৃথক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে কোনো কার্যক্রম না থাকায় সব অবকাঠামোই অব্যবহৃত পড়ে আছে।
সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোমিন উদ্দিন জানান, হাসপাতাল থেকে তিনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান, বাতি, স্যানিটারি সামগ্রী, জেনারেটরের যন্ত্রাংশ ও অস্ত্রোপচার কক্ষের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি চুরি হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান বলেন, তিনি নতুন যোগদান করেছেন। দীর্ঘদিন হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় অনেক কিছু চুরি হয়েছে বলে শুনেছেন।
কামারখন্দ থানার ওসি হাশমত আলী জানান, চুরির মামলায় সন্দেহভাজন ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন নুরুল আমিন বলেন, প্রশাসনিক অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হলেই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। দ্রুত হাসপাতালটি চালুর আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।

