দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন লাখ লাখ প্রবাসী। বিদেশে তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে মজবুত করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডকে শক্তিশালী করে তুলেছে। শুধু অর্থনীতি নয়, প্রবাসীরা তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। নতুন বাড়ি, উন্নত শিক্ষা এবং চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তারা পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছেন।
তবে মুদ্রার অন্য পিঠে রয়েছে চরম অবহেলা ও বঞ্চনার করুণ চিত্র। যে প্রবাসী পরিবারের জন্য এত কিছু করেন, সেই পরিবারেই অনেক সময় তিনি অবহেলিত হন। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে অনেক পরিবারের সঙ্গে তার মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। এর ফলে দেখা যায়, তার পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভর করে চলা সত্ত্বেও পরিবারের সদস্যরা তাকে এক ধরনের বোঝা মনে করতে শুরু করেন। সমাজে অনেক প্রবাসী ফিরে আসার পর তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ পান না, ফলে বেকারত্ব বা হতাশার শিকার হন।
প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠিয়েই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখেন না, তারা দেশের সুনামও বয়ে আনেন। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরে তারা দেশের পরিচিতি বাড়াচ্ছেন।
অর্থনৈতিক অবদানের পাশাপাশি প্রবাসীদের মানবিক দিকগুলো প্রায়শই উপেক্ষিত থেকে যায়। বিদেশে তারা নানা রকম হয়রানি ও বঞ্চনার শিকার হন, যার সমাধান পেতে অনেক সময় বেগ পেতে হয়। দেশে ফিরে আসার পর তারা যেন সমাজের মূল স্রোতে সহজে মিশতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা জরুরি। তাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি হলে প্রবাসীরা আরও বেশি করে দেশের উন্নয়নে অংশ নিতে পারবেন।
প্রবাসীদের প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পাশাপাশি তাদের ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানানো উচিত। তাদের জন্য একটি কার্যকরী পুনর্বাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিচর্যায় সহায়তা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রবাসীরা যাতে তাদের অবদান ও ত্যাগের জন্য পরিবার ও সমাজে প্রাপ্য সম্মান পান, তা নিশ্চিত করা গেলে দেশের উন্নয়নের ধারা আরও বেগবান হবে।

