চট্টগ্রাম: চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলার আসামি মো. তায়েম উদ্দিন (১৯)–কে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। ভুক্তভোগীকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ হিসেবে পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ১ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে, র্যাব-১০ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি থানাধীন বিবিরহাট বাজার এলাকা থেকে আসামি মো. তায়েম উদ্দিনকে গ্রেফতার করা হয়।
মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় দায়ের করা মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনের একটি মামলার (মামলা নং- ০৯, তারিখ- ০৭/১১/২০২৫ খ্রি.; ধারা- ৬/৭/৮/১০, মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২) এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন মো. তায়েম উদ্দিন।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টা-এর দিকে ভুক্তভোগী মাসুদ মাতুব্বর (৩২)–কে ইতালি পাঠানোর জন্য আসামি মো. তায়েম উদ্দিনসহ অন্য আসামিরা ২২ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করেন।
প্রতারণার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রথমে দুবাই এবং পরে ইতালি যাওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় পাঠানো হয়।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর আসামিরা ভুক্তভোগীকে ইতালি না পাঠিয়ে এক অজ্ঞাত মাফিয়া চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে অজ্ঞাত স্থানে আটক করে রাখে।
আটক অবস্থায় ভুক্তভোগীকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে পাঠিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে ৮ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
পরে আসামিরা ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময় নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা গ্রহণ করে।
এই বিপুল অর্থ নেওয়ার পরও ভুক্তভোগীকে মুক্তি না দিয়ে আসামি তায়েম উদ্দিনসহ অন্যরা পুনরায় ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে আরও ৭ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর মা মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে র্যাব-১০ তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং র্যাব-৭ এর সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ফটিকছড়ি থেকে এজাহারনামীয় আসামি মো. তায়েম উদ্দিন (পিতা– বকতিয়ার উদ্দিন, সাং– আজিমপুর)–কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

