বাংলাদেশ জন্মেছিল অসীম ত্যাগ আর স্বপ্নের ফসল হিসেবে। সেই স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক, সমঅধিকারভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রের। মুক্তিযুদ্ধের সময় কৃষক-শ্রমিক, ছাত্র-জনতা বুকের রক্ত দিয়ে যে ভবিষ্যৎ আঁকতে চেয়েছিল, সেখানে ছিল না বৈষম্য, দুর্নীতি, অবিচার কিংবা দুঃশাসন। ছিল শুধু শান্তি, ন্যায়বিচার আর মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা।
কিন্তু আজ পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা প্রশ্ন করি—এমন বাংলাদেশ কি চেয়েছিলাম?
যেখানে ধনী আরও ধনী হচ্ছে, গরিব আরও গরিব; যেখানে দুর্নীতি যেন প্রাত্যহিক জীবনের অংশ; যেখানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সবার জন্য সমান সুযোগের বদলে বিশেষ সুবিধাভোগীদের হাতে বন্দী; যেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা খণ্ডিত; আর রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে সংঘাত আর প্রতিহিংসার খেলাঘর।
স্বাধীনতার চেতনা ছিল মানুষের মুক্তি, সাম্যের সমাজ আর ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন। অথচ আজ আমরা দেখি, অনেক ক্ষেত্রে সেই চেতনাকে আড়াল করে ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার বলয় বিস্তার লাভ করেছে। নৈতিকতা হারাচ্ছে গুরুত্ব, সততা হচ্ছে উপহাসের বিষয়।
তবুও হতাশ হওয়ার সময় এখনো আসেনি। এই বাংলাদেশই আমাদের, এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরই এগিয়ে আসতে হবে। দুর্নীতি, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে নাগরিকের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষিত প্রজন্মকে সত্যিকারের মূল্যবোধ শেখাতে হবে, রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনতে হবে জনকল্যাণের সেবামঞ্চে।
আজ আবারও প্রত্যেককে প্রশ্ন করতে হবে—আমরা কেমন বাংলাদেশ চাই? যদি সত্যিই একটি সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র চাই, তবে দায়িত্ব নিতে হবে প্রত্যেক নাগরিককেই। কেবল অভিযোগ নয়, সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পূর্ণ বাস্তবতায় রূপ দিতে।

