সর্বশেষ :
3 Nov 2026, Tue

২১ বারেও শেষ হয়নি হাদি হত্যা মামলার তদন্ত, ফের সময় দিল আদালত

২১ বারেও শেষ হয়নি হাদি হত্যা মামলার তদন্ত, ফের সময় দিল আদালত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আবারও সময় দিয়েছেন আদালত। এবার আগামী ৭ ডিসেম্বর প্রতিবেদন জমার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ ২১ বারের মতো পেছাল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। এ কারণে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বরও প্রতিবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হয় সিআইডি। সেদিন আদালত ৩ নভেম্বর নতুন তারিখ ধার্য করেছিলেন। তারও আগে গত ২০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও তদন্ত শেষ না হওয়ায় সময় বাড়ানো হয়। সব মিলিয়ে এ নিয়ে ২১ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছাল বলে আদালত সূত্র ও মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের তথ্য থেকে জানা গেছে।

এদিকে হাদি হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সরকারকে আগামী ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটির আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা রাজপথ ছাড়বেন না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। পরবর্তী সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠনটি। বর্তমানে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা খাগড়াছড়িতে অবস্থান করছেন। মঙ্গলবার হেয়াকো বাসস্ট্যান্ড, রামগড় ও মাটিরাঙা হয়ে খাগড়াছড়ির হাদি চত্বরে কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে মামলার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া কতদূর এগোয়, তা নিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে আগ্রহ রয়েছে। অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় মামলার পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমও এগোচ্ছে না। ফলে আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে পারে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মামলাটির তদন্ত প্রথমে করেছিল ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় সংস্থাটি। এতে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান আসামি করা হয়। তবে অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে ১৫ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের তৎকালীন সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত তাঁর আবেদন গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিলে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

সিআইডির তদন্ত চলাকালে মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ফয়সাল রুবেল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে দুই দফায় মোট ১২ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *