আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহর থেকে একটি তক্ষক উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার সন্তোষী ভবনের চারতলায় উত্তম কুমার দেবের বাসায় গত দুই দিন ধরে একটি তক্ষক ঢুকে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তক্ষকের উচ্চস্বরে ডাকাডাকিতে বাসার শিশুদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ঘুমাতে পারেনি।
পরে বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানানো হলে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা বাসার বেডরুমের ফার্নিচারের পেছন থেকে তক্ষকটি উদ্ধার করেন।
উদ্ধারকৃত তক্ষকটি পরে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
তক্ষকের ইংরেজি নাম Gecko এবং বৈজ্ঞানিক নাম Gekko gecko। এটি গেকোনিডি গোত্রের একটি বড় আকারের গিরগিটি প্রজাতি। এদের দেহ সাধারণত ধূসর বা নীলচে বর্ণের হয় এবং সারা শরীরে লাল ও সাদাটে ফোঁটা দেখা যায়। পিঠের সাদাটে ফোঁটাগুলো সারিবদ্ধভাবে বিন্যস্ত থাকে।
এই প্রাণীটি মূলত কীটপতঙ্গ, ছোট টিকটিকি, ছোট পাখি ও ছোট সাপ খেয়ে থাকে এবং বাড়ির ছাদ, ফাঁক-ফোকর কিংবা গাছের গর্তে বাস করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তক্ষক দক্ষিণ এশিয়ায় একটি বিপর্যস্ত প্রজাতি। অবৈধ শিকার ও ভুল ধারণার কারণে এদের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। অনেকেই ভুলবশত তক্ষককে বিষাক্ত মনে করেন, যা সঠিক নয়।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তক্ষকের বিস্তৃতি রয়েছে। তবে অবৈধ বাণিজ্য ও লোকজ চিকিৎসার নামে নির্বিচারে নিধনের কারণে এই প্রাণীটি হুমকির মুখে রয়েছে।

