বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটায় পাহাড়ের মাটি কাটার সময় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মো. সাইফুল (২৪) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাইম্যাখোলা পাড়া এলাকায় ফকরুল ইসলাম সদাগরের মালিকানাধীন এসবিএম (SBM) ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাইফুল স্থানীয় বাসিন্দা মো. মাহাবুব আলমের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে এসবিএম ব্রিক ফিল্ডের জন্য অবৈধভাবে পাহাড় কেটে মাটি সংগ্রহের কাজ চলছিল। এ সময় পাহাড় থেকে মাটি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত একটি গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে সাইফুল গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন তাকে দ্রুত উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের পরিবার ও এলাকায় এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনার পর মালিক ফকরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অধিকাংশ ইটভাটা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, লোকালয় ও বনাঞ্চলের কাছাকাছি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে ধোঁয়া ও ধুলাবালির কারণে স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা ও অ্যালার্জিতে ভুগছেন। বিশেষ করে বয়স্কদের মধ্যে হাঁপানি, ফুসফুসের সমস্যা ও হৃদরোগের ঝুঁকি প্রতিদিন বাড়ছে।
পরিবেশবাদীদের মতে, এসব ভাটার ধোঁয়া ও রাসায়নিক নির্গমনের কারণে মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা, কৃষি উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং পাখি ও ক্ষুদ্র প্রাণী হারাচ্ছে তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল। এতে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ও মাটি সরবরাহ বন্ধ করা গেলে এসব ইটভাটা বন্ধ করা সম্ভব। ইতিপূর্বে মহামান্য বাংলাদেশ হাইকোর্ট-এর নির্দেশে ৬টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে নতুন করে আবারও চালু করেছে এসব ভাটার মালিকরা।
সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে নিয়ে গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

