সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক ‘সলিমপুর’, যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!

লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন যেন আরেক ‘সলিমপুর’, যেখানে পুলিশ যেতে ভয় পায়!

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামা উপজেলার ৩ নম্বর ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারী এলাকাটি যেন আরেক ‘সলিমপুর’। সেখানে আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গড়ে উঠেছে অপরাধের অভয়ারণ্য। অভিযোগ উঠেছে, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ঠিক পেছনের ফেতাইন্যাছড়া এলাকায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণে প্রশাসন কার্যত অসহায় কিংবা নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এলাকায় অবাধে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাচার, যার ফলে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে সাধারণ মানুষের বসতভিটা ও কৃষিজমি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির একেবারে নাকের ডগায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় পুলিশ সেখানে অভিযানে যেতে ‘ভয় পায়’ কিংবা রহস্যজনক কারণে এড়িয়ে যায়। দুর্গম ও অপরাধপ্রবণ চট্টগ্রামের ‘সলিমপুর’ অঞ্চলের মতোই কুমারী এলাকার ফেতাইন্যাছড়া এখন অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সদস্যরা ফেতাইন্যাছড়া খাল ও আশপাশের কৃষিজমি থেকে শক্তিশালী ড্রেজার ও স্যালো মেশিন বসিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন করছে। প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ডাম্পার বোঝাই করে এসব বালু বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ও কৃষিজমিতে বড় বড় ধস দেখা দিয়েছে। এলাকার বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি যেকোনো মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, একটি পুকুর খননের অনুমতি নিয়ে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি সরওয়ার আলম, শ্রমিক দল সভাপতি নাজিম উদ্দিন, কুমারী এলাকার বিএনপি নেতা আবুল হোসেন এবং কুমারী তৃণমূল যুবদল নেতা নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে এই অবৈধ বালু ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ছড়া ও ফসলি জমির বুক চিরে বালু উত্তোলন করে আসছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফাঁড়ির পুলিশ সব দেখেও না দেখার ভান করে। সিন্ডিকেটের ক্ষমতার দাপটে সাধারণ মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায় না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। পুলিশ যেখানে অপরাধ দমনে কাজ করার কথা, সেখানে ফাঁড়ির পেছনে অবৈধ বালুর মেলা চললেও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কুমারী এলাকা এখন অপরাধীদের জন্য আরেক সলিমপুর হয়ে উঠেছে।

সাংবাদিকরা সরেজমিনে গিয়ে কুমারী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) জামিল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি “আসছি, যাচ্ছি” বলে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সেখানে পুকুর খননের অনুমতি রয়েছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বলেন, আমরা কুমারী এলাকার ফেতাইন্যাছড়া পরিদর্শন করেছি। তাদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *