কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজে পবিত্র আল-কোরআনের আয়াত অবমাননা ও সুপরিকল্পিতভাবে তা মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও গণঅসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর কলেজের একটি ম্যুরালে শোভা পাচ্ছিল পবিত্র কোরআনের নূরানি আয়াত। কিন্তু অত্যন্ত গোপনীয়তা ও ধৃষ্টতার সঙ্গে সেই আয়াতগুলো মুছে ফেলায় সাধারণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কলেজের শিক্ষকরা জানিয়েছেন, ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজ-এর ভাইস প্রিন্সিপাল ও আওয়ামী লীগ নেতা আনিসুর রহমান-এর মৌখিক নির্দেশে এবং শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া-এর সরাসরি তদারকিতে ম্যুরাল থেকে পবিত্র কোরআনের আয়াতগুলো পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে ফেলা হয়। কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত কিংবা সাধারণ শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অত্যন্ত স্বৈরাচারী কায়দায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার এই অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার জানাজানি হওয়ার পরপরই কলেজের সাধারণ শিক্ষকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন। প্রতিবাদী শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেখানে নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা হওয়ার কথা, সেখানে একদল কুচক্রী শিক্ষক পবিত্র কোরআনের আয়াত মুছে ফেলে চরম সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়েছেন। এটি কেবল একটি দেয়ালচিত্র পরিবর্তন নয়, বরং কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক আল-কোরআনের অবমাননা।
বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে কলেজের প্রিন্সিপাল মাররুরুল আলম দাবি করেছেন, তারা বিষয়টি সম্পর্কে আগে থেকে অবগত ছিলেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাইস প্রিন্সিপাল আনিসুর রহমান-এর নির্দেশনা এবং শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া-এর প্রত্যক্ষ মদদেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কার ইশারায় এবং কোন উদ্দেশ্যে সরকারি কলেজে এই পবিত্র আয়াতগুলোর ওপর আঘাত হানা হলো?
স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, সরকারি মহিলা কলেজে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতেই পরিকল্পিতভাবে পবিত্র কোরআন অবমাননা করা হয়েছে। দ্রুত কোরআনের ম্যুরাল যথাস্থানে পুনঃস্থাপন না হলে সর্বসাধারণ রাজপথে নামবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষক ও স্থানীয় তৌহিদী জনতা অবিলম্বে ওই ম্যুরালে পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে পবিত্র কোরআনের ছবি ও আয়াত পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আনিসুর রহমান ও জিয়াউল হক জিয়া-কে তদন্তের আওতায় এনে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তোলা হয়েছে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রতিবাদীরা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় বইছে। সচেতন মহলের দাবি, পবিত্র কোরআনের সম্মান রক্ষার্থে প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা ভেড়ামারা-র শান্ত পরিবেশ অস্থির হয়ে উঠতে পারে।

