বিজয় চৌধুরী (ঢাকা): বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ২য় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে উদ্যাপন করা হয়েছে। ঢাকা সেনানিবাসের কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে বর্ণাঢ্য আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম (অব.)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, এমপি। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর তিন বাহিনীর প্রধানরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সেস ফাউন্ডেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সামরিক কৌশল, নেতৃত্ব, যুদ্ধকালীন পরিকল্পনা এবং স্বাধীনতা অর্জনের পটভূমি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এ কোর্সে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সামরিক ও ঐতিহাসিক দিক নিয়ে আলোচনা, গবেষণা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের সামরিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে জ্ঞান ও উপলব্ধি আরও গভীর করার ক্ষেত্রে এ ধরনের কোর্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পেশাগত সম্পর্ক জোরদারেও এ আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখে।
অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ২য় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং। কোর্সে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
ফেলোশিপ ডে উপলক্ষে কোর্সের সদস্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ, গবেষণা ও চর্চার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস কেবল একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় নয়, বরং জাতির আত্মপরিচয় ও রাষ্ট্রীয় অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তাই মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, বিশেষ করে যুদ্ধের সামরিক কৌশল ও নেতৃত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে ধারাবাহিক গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার প্রয়োজনীয়তার কথাও অনুষ্ঠানে উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধানদের উপস্থিতি আয়োজনটিকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দেশ, সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ফেলোশিপ ডে উপলক্ষে সামরিক ও বেসামরিক অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ করার বিষয়ে আলোচনা করেন।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে কোর্সে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ ও বন্ধন তৈরি হয়। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের সামরিক ইতিহাস নিয়ে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২য় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ও ফেলোশিপ ডে সম্পন্ন হয়। সামরিক-বেসামরিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও সামরিক জ্ঞানচর্চাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।

