সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি

মাকে কাঁধে করে ছেলের ভিক্ষাবৃত্তি

আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): ক্ষুধার জ্বালা আর মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে জয়পুরহাটের পাঁচবিবির যুবক ওবাইদুল অসুস্থ মাকে কাঁধে নিয়েই করছেন ভিক্ষাবৃত্তি। অসুস্থ ও প্রতিবন্ধী মা নুরবানুকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাঁধে, কোলে কিংবা পিঠে করে পাঁচবিবি রেলস্টেশন ও বাজার এলাকায় ঘুরে বেড়ান তিনি। ভিক্ষার টাকাতেই চলে মা-ছেলের জীবন।

সারাদিন মাকে কোলে কিংবা পিঠে বেঁধে নিয়ে ক্লান্ত শরীরে বিভিন্ন স্থানে ভিক্ষা শেষে মা-ছেলে ফিরে আসেন স্টেশনে। কারণ মা নুরবানু ও ছেলে ওবাইদুলের কোনো স্থায়ী বাসাবাড়ি নেই। পেটের দায়ে সারাদিন ভিক্ষা শেষে রাত কাটে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মেঝেতেই। ভিক্ষার টাকায় কোনোমতে মেটে তাদের ক্ষুধার জ্বালা।

ওবাইদুল জানান, তার মা একসময় স্বাভাবিক ছিলেন। কয়েক বছর আগে তাঁর মাথায় বড় ধরনের ঘা হয়। সেখানে পোকা ধরার পর ধীরে ধীরে তিনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে চিকিৎসা করালে কিছুটা সুস্থ হলেও মা আর হাঁটাচলার শক্তি ফিরে পাননি। এমনকি একা দাঁড়াতে কিংবা বসতেও পারেন না তিনি।

পাবনার ভেড়ামারা এলাকার জয়নাল হোসেনের সঙ্গে নুরবানুর বিয়ে হয়েছিল। তবে জয়নাল আরেকটি সংসার নিয়ে স্টেশন কুলিপট্টি তুড়িপাড়ায় বসবাস করেন বলে জানা গেছে। ওবাইদুল ছোট থাকতেই মা-ছেলের কোনো খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেন ওবাইদুল। দীর্ঘদিন ধরে মা-ছেলে স্টেশনেই মানবেতর জীবনযাপন করে আসছেন।

ওবাইদুল নিজেই মায়ের গোসল, খাওয়াদাওয়া, প্রস্রাব-পায়খানাসহ সব ধরনের দৈনন্দিন কাজ করে দেন। তিনি বলেন, আমি কাজ করতে পারি। কিন্তু মাকে একা রেখে গেলে তিনি কোথায় চলে যাবেন, তার ঠিক নেই। কারণ তাঁর মাথায় সমস্যা রয়েছে। বাধ্য হয়েই মাকে সঙ্গে নিয়ে অন্যের কাছে হাত পাততে হয়।

এত কষ্টের মাঝেও মাকে ছেড়ে যেতে পারেন না ওবাইদুল। তিনি বলেন, সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আমার একটাই চাওয়া- মায়ের জন্য যদি একটি হুইলচেয়ার পাওয়া যেত। তাহলে মাকে এভাবে কাঁধে করে ঘুরতে হতো না, মায়ের কষ্টও কিছুটা কমত।

পাঁচবিবির সাধারণ মানুষের চোখে মা-ছেলের এমন দৃশ্য এখন অনেকটাই নিত্যনৈমিত্তিক। তবে একজন সন্তানের মায়ের প্রতি এমন মমতা ও দায়িত্ববোধ স্থানীয়দের নজর কেড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন ও সমাজসেবা অধিদপ্তর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মা-ছেলের মানবেতর জীবনের অবসানে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করুক।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *