টেলিমেডিসিন ও রিমোট চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা
ঢাকা: দেশের চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চাপ কমানো এবং রোগীদের ঘরে বসেই নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করতে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভেস্ট’ উদ্ভাবন করেছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক Md. Eanamul Haque Nizam।
বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার আশায় বাংলাদেশের অনেক রোগী বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থা দূর থেকে পর্যবেক্ষণ, ঘরে বসে চিকিৎসা সহায়তা এবং টেলিমেডিসিন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই স্মার্ট মেডিকেল ভেস্টের ধারণাটি তৈরি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘Smart Medical Vest’ এমন একটি স্মার্ট টেক্সটাইলভিত্তিক পরিধানযোগ্য চিকিৎসা-সহায়ক ব্যবস্থা, যা রোগী শরীরে পরিধান করে রাখতে পারবেন। ভেস্টের সঙ্গে সংযুক্ত সেন্সরের মাধ্যমে রোগীর গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক তথ্য সংগ্রহ করে ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে তা মোবাইল ডিভাইসে পাঠানো সম্ভব হবে। রোগী তাঁর নির্দিষ্ট Bluetooth code চিকিৎসককে প্রদান করলে চিকিৎসক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে রোগীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
এর ফলে রোগীকে প্রতিবার হাসপাতালে উপস্থিত না হয়েও চিকিৎসকের পরামর্শ ও পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখা সম্ভব হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘমেয়াদি রোগী, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
উদ্ভাবক Md. Eanamul Haque Nizam বলেন, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য একটি প্রযুক্তি তৈরি করাই এই উদ্ভাবনের মূল উদ্দেশ্য। রোগী যেন নিজের বাড়িতে থেকেই চিকিৎসকের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারেন এবং চিকিৎসক যেন একই সময়ে আরও বেশি রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন—এই লক্ষ্যেই স্মার্ট মেডিকেল ভেস্টের ধারণাটি তৈরি করা হয়েছে।
গবেষণা দলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন Southeast University-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী Mr. Abir Abbas এবং Ms. Jannatul Naima। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্মার্ট টেক্সটাইল, সেন্সর প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার সমন্বয়ে এই উদ্ভাবনটি তৈরি করা হয়েছে।

গবেষণা দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্ভাবনের ধারণা ইতোমধ্যে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন MDPI-এর ‘Textiles’ জার্নালে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে এবং উদ্ভাবনটির জন্য provisional patent application-ও করা হয়েছে।
উদ্ভাবকদের মতে, বাংলাদেশে টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে হলে এ ধরনের দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসক-নার্সের সংখ্যার মধ্যে ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলায় রিমোট patient monitoring একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে।
গবেষণা দল মনে করে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যথাযথ যাচাই, ক্লিনিক্যাল মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের মাধ্যমে ‘Smart Medical Vest’-এর মতো প্রযুক্তিকে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু করতে পারে। ব্যাপক পর্যায়ে প্রয়োগ করা গেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের চিকিৎসকের সঙ্গে যুক্ত রাখা, হাসপাতালের ওপর চাপ কমানো এবং টেলিমেডিসিন সেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এটি সম্ভাবনাময় ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘Smart Medical Vest’ ভবিষ্যতে দেশের ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনী সংযোজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

