মনিরুল ইসলাম ডাবলু, নলডাঙ্গা (নাটোর): নাটোরের নলডাঙ্গায় পরকীয়ার জেরে স্বামী মো. কালুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে তার স্ত্রী সালমা বেগম ও প্রেমিক আহাম্মদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে উভয়কে ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিহত কালুর স্ত্রী সালমা বেগম স্থানীয় আহাম্মদ আলীর সঙ্গে পরকীয়ার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্বজনদের নানা বাধা-নিষেধ সত্ত্বেও তারা ওই সম্পর্ক অব্যাহত রাখেন। ২০২১ সালের ১৫ অক্টোবর রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন কালু। গভীর রাতে সালমার চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘরে গিয়ে কালুর রক্তাক্ত ও নিথর মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সালমা বেগম ও তার প্রেমিক আহাম্মদ আলী মিলে কালুকে হত্যা করেছেন।
খবর পেয়ে নলডাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরদিন, ১৬ অক্টোবর নিহতের মা মোছা. আছিয়া বেগম বাদী হয়ে নলডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত শেষে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন হয়। দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে প্রায় পাঁচ বছর পর বিচারক মো. সাইফুল ইসলাম আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ১ নম্বর আসামি সালমা বেগম এবং ২ নম্বর আসামি আহাম্মদ আলীকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড অনাদায়ে উভয়কে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাটোর জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন তালুকদার টগর এবং মামলার বাদী আছিয়া বেগম।

