সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

নলডাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে কালের সাক্ষী সড়কবিহীন এতিম সেতু -বিপদে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারী

নলডাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে কালের সাক্ষী সড়কবিহীন এতিম সেতু -বিপদে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারী

মনিরুল ইসলাম ডাবলু, নলডাঙ্গা (নাটোর): নাটোরর নলডাঙ্গায় ৪০ বছর ধরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সড়কবিহীন একটি ‘এতিম’ সেতু। সেতু নির্মাণ হলেও আজও সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি। ফলে কোনো কাজে আসছে না সেতুটি। সড়ক না থাকায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেতুর অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেতুটি কারা নির্মাণ করেছিল, সে বিষয়েও সঠিক তথ্য কেউ বলতে পারেন না। এলাকাবাসী নতুন করে সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা যায়, নলডাঙ্গায় প্রায় ৪০ বছর আগে বন্যায় সড়ক বিলীন হয়ে গেলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সড়ক থেকে প্রায় ২০ ফুট ওপরে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেতুগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নলডাঙ্গা উপজেলার মাধনগর ইউনিয়নর ভট্টপাড়া থেকে খাজুরা ইউনিয়নয় চলাচলের জন্য প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একমাত্র সড়কটি ৪০ বছরেও সংস্কার হয়নি। এক সময় এখানে চলাচলের জন্য সড়ক থাকলেও প্রায় ৪০ বছর আগে বন্যায় তা বিলীন হয়ে যায়। কিন্তু কালের সাক্ষী হয়ে এখনও দাঁড়িয়ে আছে এই পথে স্থাপিত সেতুগুলো। জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের কাছে এলাকাবাসী বারবার জানালেও প্রতিশ্রুতি ছাড়া বাস্তব কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এর প্রভাব পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থায়ও। চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা থেকেও বঞ্চিত এই এলাকার জনসাধারণ। এমনকি বর্ষাকালে চলাচলের জন্য নৌকা থাকলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে চায় না। আবার শুকনো মৌসুমে চলাচলের জন্য কৃষিজমির মালিকদের বাধার মুখে পড়তে হয় দুর্গম ও অবহেলিত এই জনপদের মানুষদের।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুর শেখ, আব্দুস সাত্তার, মেছের আলী, রাশেদা বেগমসহ অনেকে জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে সেতুগুলো নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সড়ক না থাকায় কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গ্রামের মানুষদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে নষ্ট হচ্ছে সময়, অর্থ ও শ্রমঘণ্টা। এখনও অনেকটা যোগাযোগবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে নুরিয়াগাছা, মহিষডাঙ্গাসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ। দ্রুত সড়ক সংস্কারের দাবি জানান তারা।

ভট্টপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়র প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশীদ বলেন, রাস্তাটি না থাকায় অনেক দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। জরুরি অবস্থায় রোগীদের হাসপাতালে নিতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া বর্ষাকালে ঐতিহ্যবাহী বিল হালতি পানিতে পরিপূর্ণ হয়ে মিনি কক্সবাজারের আদলে পরিণত হয়। এসময় দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকদের সমাগম ঘটে। কিন্তু উঁচু এই সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে থাকায় নৌকা ভ্রমণে গিয়ে অনেক পর্যটক দুর্ঘটনার শিকার হন। অথচ কালের সাক্ষী এই সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ হলে এলাকার হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হতো।

এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নাটোর-২ (নলডাঙ্গা) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ, বহুল প্রত্যাশিত এই সেতুর সংস্কারসহ সংযোগ সড়ক নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন, এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *