নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জে ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু (৪৫) সোমবার রাত থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। বাড়ির কাছেই কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে রক্তের দাগ ও জমাট বাঁধা রক্ত দেখতে পাওয়ার পর তাঁকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে ঢাকার একটি ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ৮টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার খতিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে বের হন জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু। এরপর তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। রাত ১২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর খোঁজ শুরু করেন। এ সময় তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান শুরু করে। তবে সেন্টুর মুঠোফোনের টাওয়ার লোকেশনও নিষ্ক্রিয় পাওয়া যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরদিন মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। এতে তাঁদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তমাখা স্থানটি লাল ফিতা দিয়ে ঘিরে রাখে। পাশাপাশি নদীতে তল্লাশির জন্য ঢাকার একটি ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ডুবুরি দল নদীতে তল্লাশি চালালেও নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলম সেন্টুর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ভাই বিপ্লব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ভাইকে কেউ পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ গুম করার চেষ্টা করেছে বলে আমাদের ধারণা। নদীর পাড়ে পাওয়া রক্তের দাগ সেই সন্দেহ আরও বাড়িয়েছে।”
পরিবারের সন্দেহের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকা থেকে দুজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু হানিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশের একাধিক টিম বিষয়টি নিয়ে মাঠে কাজ করছে। তবে নিখোঁজ জাহাঙ্গীর আলম সেন্টু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন কি না, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে- তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাঁদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না।”
ঘটনার প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওসি আবু হানিফ।

