দোহার (ঢাকা): ঢাকার দোহারে মুকসুদপুর ডাকবাংলো এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৩টি ড্রেজার মেশিন ধ্বংস ও বালু সরবরাহের অসংখ্য পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় মুকসুদপুর ডাকবাংলো এলাকায় দোহার উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে সহযোগিতা করে দোহার ক্যাম্প কমান্ডার মেজর এ কে ওয়াফিজ উদ্দিন আহমেদ, দোহার থানার ওসি মো. হাসান আলী, ওসি (তদন্ত) মো. নুরুন্নবী এবং অন্যান্য সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।
অভিযানের সময় নারিশা ও মুকসুদপুরের ডাকবাংলো এলাকার পদ্মানদীর পাড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ৩টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। একই সাথে বালু সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত অসংখ্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত ড্রেজারগুলোতে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের বারবার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একদল প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এর ফলে পদ্মারক্ষা বাঁধ ও পার্শ্ববর্তী জমিগুলো ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। রাতের আঁধারে এসব অবৈধ কার্যক্রম চলত।
উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসফিক সিবগাত উল্লাহ বলেন, অনুমতি ছাড়া কৃষি জমি বা নদী-জলাশয় থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তিনি আরও জানান, জনমাল ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

