আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগালের পর এবার ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে ফ্রান্স। মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের ওপর নতুন কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
জাতিসংঘে ম্যাক্রোঁ বলেন, আজ আমি ঘোষণা করছি, আমরা ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছি। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।
ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পদক্ষেপকে ‘অসময়ের’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, পশ্চিমা দেশগুলোর এ ধরনের স্বীকৃতি হামাসকে উৎসাহিত করবে এবং গাজায় চলমান সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধান আরও কঠিন করে তুলবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এমন এক সময়ে ফ্রান্সের এই ঘোষণা এলো যখন গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান তীব্র রূপ ধারণ করেছে। চলমান সংঘাতে এ পর্যন্ত ৬৫ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং গাজা উপত্যকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে ১৪০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান অংশ নেবেন। এবারের অধিবেশনে ফিলিস্তিন ইস্যুটি মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এবারের অধিবেশনে অংশ নিতে পারছেন না। এই ঘটনা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

