সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

দলিল পোড়ানো হলো, কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল

দলিল পোড়ানো হলো, কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল,কালের বার্তা

আব্দুস সালাম (দিনাজপুর): দীর্ঘ আট বছর ধরে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের অন্ধকার ফাইল কেবিনেটে পড়েছিল প্রায় দেড় হাজার (১,৫০০) গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এ যেন এক নীরব অভিশাপ, যা অবশেষে গত রোববার (০৯ নভেম্বর) দুপুরে অফিসের সামনে প্রকাশ্যে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করার মাধ্যমে মুক্তি পেল! নিবন্ধন অধিদপ্তরের কড়া নির্দেশ মেনে এসব দাবিহীন দলিল ধ্বংস করা হলেও, প্রশ্ন উঠেছে, জমির মালিকেরা কেন বছরের পর বছর ধরে তাদের মূল্যবান সম্পত্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র নিতে এলেন না?

নিবন্ধন অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, কোনো দলিল যদি দুই বছরের বেশি সময় ধরে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে তা আইন অনুযায়ী ধ্বংস করতে হবে। সেই কঠোর বিধান মেনেই ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ঘোড়াঘাট সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে জমা হওয়া ১,৫০০ দলিল এই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হলো।

ঘোড়াঘাট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কামরুন নাহার এই উদ্যোগের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে দাবিহীন দলিল অফিসে রাখা যায় না, ধ্বংস করার নিয়ম রয়েছে। তবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ওয়াকফ স্টেটের দলিলগুলো এর বাইরে রাখা হয়েছে। অধিদপ্তরের নির্দেশ মেনেই দীর্ঘদিনের জমে থাকা এই দলিলগুলো আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হলো।

জমির মালিকানা সংক্রান্ত এতগুলো দলিল কেন টানা ৮ বছর ধরে পড়ে রইল, এই প্রশ্ন ঘোড়াঘাটের স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে। কেউ বলছেন, হয়তো সামান্য আর্থিক লেনদেনের জটিলতা ছিল। আবার কারও মতে, হয়তো মালিকানা নিয়ে বিরোধ বা অন্য কোনো আইনি জটিলতার কারণে কেউ দলিল সংগ্রহ করতে সাহস করেননি। বিপুল সংখ্যক দলিলের এই দাবিহীনতা ভূমি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা অথবা দলিলগ্রহীতাদের সচেতনতার অভাব কোন দিকে ইঙ্গিত করছে, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।

দলিল ধ্বংসের এই আইনি প্রক্রিয়া চলাকালে উপস্থিত ছিলেন ঘোড়াঘাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখ, অফিস সহকারী রুহিলা খাতুন, স্থানীয় দলিল লেখক, নকলনবিস এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।

১,৫০০ দলিলের এই প্রকাশ্য ধ্বংসের ঘটনাটি কেবল একটি আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং এটি ভূমি সংক্রান্ত সচেতনতা এবং সরকারি সেবা গ্রহণে নাগরিকদের আগ্রহের অভাব নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল ঘোড়াঘাটের মাটিতে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *