শফিকুল ইসলাম, তালা (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিলনগর বাজারের প্রাণকেন্দ্রে মহান্দী–কাশিমনগর বাজার আঞ্চলিক সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত শিশুগাছ দুটি ব্যবসায়ী, কোমলমতি শিক্ষার্থী ও পথচারীদের জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো সময় বড় বড় শুকনা ডাল ভেঙে পড়ে প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গাছ দুটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাজারের কেন্দ্রস্থলে মহান্দী–কাশিমনগর সড়কের পাশে দুটি মৃত শিশুগাছ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গাছগুলোর অধিকাংশ শুকনা ডাল রাস্তার ওপর ঝুলে আছে। গাছের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে খলিলনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পূর্ব-দক্ষিণ পাশে খলিলনগর ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঝখানে অবস্থিত খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদ।
গাছের নিচে রয়েছে ওষুধের দোকান, ফটোকপি দোকান, মুদিখানা ও রেস্টুরেন্ট। বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এসব দোকানে নিয়মিত ফটোকপি ও খাদ্যসামগ্রী কিনতে আসে। ফলে যে কোনো সময় শুকনা ডাল ভেঙে পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত হানতে পারে। এমনকি ঘটতে পারে প্রাণহানির ঘটনাও। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- গাছগুলোর সঙ্গে বৈদ্যুতিক তার সংযুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আওরঙ্গজেব হাওলাদার বলেন, এই শিশুগাছ দুটি প্রায় দুই বছর ধরে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সরকারি গাছ হওয়ায় ইচ্ছামতো কাটা যাচ্ছে না। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপা রানী সরকার গাছগুলো দেখে অপসারণের কথা বলেছিলেন, কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছগুলো অপসারণ করা হোক।
স্থানীয় চালকল মালিক সহিদুল ইসলাম বলেন, এই মৃত গাছের কারণে আমরা সব সময় আতঙ্কের মধ্যে আছি। যে কোনো সময় শুকনা ডাল ভেঙে দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। গাছের দুই পাশে দুটি স্কুল থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত এখানে আসে। ডাল ভেঙে যদি কোনো শিশুর গায়ে পড়ে, তাহলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান, কামরুল ইসলাম, আনন্দ ঘোষ ও সঞ্জয় ঘোষ বলেন, কিছুদিন আগে এই গাছের একটি শুকনা ডাল ভেঙে এক শিশুর গায়ের ওপর পড়ে। এতে সে সামান্য আহত হয়। ডালটি যদি মাথায় পড়ত, তাহলে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বিকাশ মণ্ডল বলেন, পরিষদের সামনে মূল সড়কের পাশে গাছগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। গাছগুলো অপসারণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে রেজুলেশন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত গাছগুলো অপসারণ না করলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক হাসান বলেন, সরেজমিন পরিদর্শন করে গাছগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

