ছোটন বিশ্বাস (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়িতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এক পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে খাগড়াছড়ির পাইখাইয়া পাড়া আলো এনজিওর মিলনায়তন কক্ষে এ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমার সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নিটোল মনি চাকমা ও জয়া ত্রিপুরা।
সভায় স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে রুফটপ সোলার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, সম্ভাবনা ও সুফল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং পরিবেশবান্ধব টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা রুফটপ সোলার বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের চ্যালেঞ্জ, সুযোগ ও জনগণের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং কমিউনিটির মানুষকে রুফটপ সোলার ব্যবহারে উৎসাহিত করার অঙ্গীকার করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। তিনি বলেন, “বসতবাড়িতে রুফটপ সোলার স্থাপন জনপ্রিয় করা সম্ভব হলে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সারাদেশে সোলার প্যানেলসহ এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের একটি বিশাল বাজার তৈরি হবে, যা আমাদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করবে এবং জ্বালানি আমদানির ওপর চাপ কমাবে।” তিনি আরও বলেন, সারাদেশে এক লক্ষ সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সভাপতি অরুণ কান্তি চাকমা বলেন, “ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ শুধু বিদ্যুতের চাহিদা পূরণই করবে না, বরং নেট মিটারিং সুবিধার মাধ্যমে আয় করতেও সহায়তা করবে।”
এই সভায় জনপ্রতিনিধিদের মতামত ও পরামর্শকে ভবিষ্যৎ অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় ভূমিকা ও সমন্বয় এই উদ্যোগের সফলতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন। রুফটপ সোলারের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন, সাশ্রয়ী ও টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে এ ধরনের কমিউনিটি-ভিত্তিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য জয়া ত্রিপুরা বলেন, বিদ্যুৎ খাত আমাদের জীবনের একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের বিষয়ে অবগত হতে পারেন, সে জন্য ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার আহ্বান জানান তিনি।
অপরদিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের সদস্য নিটোল মনি চাকমা বলেন, দালান নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার সময় সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্কুল, হাসপাতালসহ অন্যান্য স্থাপনাকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম খাগড়াছড়ির সদস্য ও নারীনেত্রী নমিতা চাকমা, সাধারণ সম্পাদক ইখিন চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার নিতু প্রসাদ চাকমা, কাবিদাং-এর নির্বাহী পরিচালক লালসা চাকমা, জাবারাং কল্যাণ সমিতির কর্মসূচি পরিচালক বিনোদন ত্রিপুরা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আর্যমিত্র চাকমা, খাগড়াছড়ি সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি কানন আচার্য্য, চ্যানেল ২৪-এর সাংবাদিক নুরুচ্ছাফা মানিকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সংবাদমাধ্যম প্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ।

