আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাট জেলার মাটি আলু উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উৎকৃষ্ট। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কৃষকরা গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে আলুর চাষ করেছেন। ফলনও বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু বিধিবাম-আকস্মিক বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় কৃষকের মাটির নিচের স্বপ্নের ভান্ডার। একদিকে বাজারে দরপতন, অন্যদিকে বৃষ্টিতে আলুর ব্যাপক ক্ষতি-এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক সমাজ।
উপজেলার আটাপুর ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলাম আমু বলেন, ২০-২২ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছিলাম। বৃষ্টির পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। শুকনো জমি থেকে আলু উত্তোলনের যে খরচ, কাদা পানির মধ্য থেকে তা দ্বিগুণেরও বেশি। ইরি-বোরো চাষাবাদের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় আলু তোলা শেষে জমি চাষ করে ইরি ধান লাগিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার যেহেতু খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন হলে হঠাৎ বৃষ্টির পানিতে ভবিষ্যতে কৃষকের ফসলের ক্ষতি কম হবে।
কুসুম্বা ইউনিয়নের জাম্বুবান গ্রামের কৃষক মো. বেলাল হোসেন বলেন, এবছর অনেক টাকা খরচ করে ৪২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলাম। কিন্তু দুই দিনের বৃষ্টিতে সব শেষ হয়ে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া আলু ঘরে তুলতে চড়া দামেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে আলু উত্তোলন করছি। আমাদের এমন দুরাবস্থার খবর পেয়ে আলুর জমিতে ছুটে এসেছেন কৃষি কর্মকর্তা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ উপজেলায় ৭,৬৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ হয়েছে। আকস্মিক বৃষ্টিতে প্রায় ১৩৫ হেক্টর জমির আলু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলের মাঠের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক কম হতো। উপজেলার আলুর ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

