মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): গভীর রাতে চারদিকে যখন নিস্তব্ধতা বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান শুরু করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গাঁজাবোঝাই পিকআপ ভ্যান নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে মাদক কারবারিরা। কয়েক কিলোমিটার ধাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত পিকআপ ভ্যানটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কুলিয়ারচর থানা পুলিশের এ সফল অভিযানে উদ্ধার করা হয় ২৪ কেজি গাঁজা। একই সঙ্গে জব্দ করা হয় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যান।
কুলিয়ারচর থানা সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার দ্বাড়িয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কুলিয়ারচর থানার এসআই সুজন বিশ্বাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলরত তুলাভর্তি একটি পিকআপ ভ্যানকে থামানোর সংকেত দেয় পুলিশ। কিন্তু সংকেত উপেক্ষা করে চালক দ্রুতগতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশও সঙ্গে সঙ্গে ধাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে ঢাকা মেট্রো-ন ১২-০৩৬৬ নম্বরের পিকআপ ভ্যানটি বাজরা বাসস্ট্যান্ডের মাছ আড়তের ভেতরে ঢুকে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই চারদিক থেকে সেটিকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে পিকআপ ভ্যানটি তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ২৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয় এবং মো. ডালিম মিয়া (৩৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ডালিম মিয়া কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আলাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক ডালিম মিয়া একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এসব মামলার তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি তাঁর সহযোগীদের শনাক্তে কাজ চলছে।
উদ্ধার হওয়া গাঁজা ও জব্দ করা পিকআপ ভ্যান পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ১ জুলাই বুধবার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
কুলিয়ারচর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধে গোয়েন্দা তৎপরতাও আরও জোরদার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কুলিয়ারচরে সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে একের পর এক মাদক উদ্ধার এবং কারবারিদের আইনের আওতায় আনছে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পুলিশের এমন ধারাবাহিক ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।

