আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট): জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ও আটাপুর ইউনিয়নের ঝিনাইল খালে খননকাজ শুরু হয়েছে। সারা দেশে বাস্তবায়নাধীন খাল খনন কর্মসূচির আওতায় ইজিপিপি (Employment Generation Program for the Poorest) প্রকল্পের মাধ্যমে এ কাজ পরিচালিত হচ্ছে। উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ দপ্তরের উদ্যোগে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
এলাকার হতদরিদ্র ও দিনমজুর পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে খাল খনন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় মোট ১০৭ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি পাবেন।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, ভেকু (এক্সকাভেটর) মেশিন দিয়ে খালের মূল অংশের খননকাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে শ্রমিকরা খালের দুই পাড় সংস্কার ও মাটি কাটার কাজ করছেন। বর্ষার পানিতে পাড়ের ক্ষয়রোধ এবং সামাজিক বনায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলার সোনাপুর এলাকার মজনু মাস্টারের জমি থেকে জীবনপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবু বক্কার সিদ্দিক বলেন, খালের পাড় সংস্কারের কাজ শেষ হলে দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন জলাবদ্ধতা দূর হবে, তেমনি বর্ষার পানি নিষ্কাশন সহজ হবে। পাশাপাশি পাড়ের ক্ষয়রোধ, পরিবেশের উন্নয়ন এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে মৌসুমি শ্রমিকদের আয়ের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় শ্রমিকরা জানান, কৃষিকাজের মৌসুম শেষ হওয়ার পর তারা বেকার সময় পার করছিলেন। সরকারি এই প্রকল্পে কাজ পেয়ে তারা উপকৃত হয়েছেন।
এলাকার একাধিক কৃষক বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে জমির ফসল তলিয়ে গিয়ে প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়তে হতো। খাল খনন সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ক্ষতি অনেকাংশে কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগজানা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ মণ্ডল, ইউপি সদস্য মো. আমিনুর ইসলাম (আমু), অফিস সহকারী আব্দুল গণি এবং স্থানীয় যুবদল নেতা মেজবাউল উলুম মেজবা।

