সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

লামা-আলীকদমে থামছেই না হামের ভয়াবহতা: নববধূসহ ২ জনের মৃত্যু

লামা-আলীকদমে থামছেই না হামের ভয়াবহতা: নববধূসহ ২ জনের মৃত্যু

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হাম ও ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এক শিশুসহ আরও দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ জনে। দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কারণে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কুরুকপাতার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের উপসর্গে প্রাণ হারিয়েছে মাত্র ১ বছর বয়সী শিশু তুমরাও ম্রো। অন্যদিকে, বুধবার (১৫ মে) সকালে কুরুকপাতার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভেওলা ম্রো পাড়ার সংপ্রং ম্রো (১৮) নামে এক নববধূ হাম ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ আনা হলে ভর্তির মাত্র ৪ মিনিটের মাথায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এই এলাকায় এ পর্যন্ত ৩০৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বর্তমানে ৭৪ জন শিশু ও পূর্ণবয়স্ক রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই শিশু। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জন হামে আক্রান্ত শিশুকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল-এ রেফার করা হয়েছে।

এদিকে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সাঙ্গু অনাথ সংঘ-এ ২৪ জন শিক্ষার্থীর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তথ্য পাওয়ার পরপরই আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, অনাথ আশ্রমের শিশুদের অসুস্থতার খবর পাওয়া মাত্রই লামা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তফা নাদিমের নির্দেশনায় রবিবার (১০ মে) সকালে একটি বিশেষ মেডিকেল টিম প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধপত্র নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ওই দুর্গম এলাকায় পৌঁছে।

দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড হওয়ায় আক্রান্তদের দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমানে সেনাবাহিনী ও স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় জরুরি মেডিকেল ক্যাম্প এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ১৬ মে কুরুকপাতা মৈত্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থাপিত অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে অধ্যাপক থানজামা লুসাই-এর।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এখন রাজনীতি বা দোষারোপের সময় নয়; বরং দুর্গম এই জনপদের শিশুদের বাঁচাতে দ্রুত জরুরি স্বাস্থ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানি এবং গণসচেতনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষা করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *