সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৩৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি সাফল্য

লামার কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজের ৩৮ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি সাফল্য

বেলাল আহমদ, লামা (বান্দরবান): বান্দরবানের লামার দুর্গম পাহাড়ে অবস্থিত কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজ সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছে। ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৩৮ জন শিক্ষার্থী মেধার ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

এ বছর চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩ জন সরকারি মেডিকেল কলেজে, ২ জন চুয়েট (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ১ জন রুয়েট (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), ৭ জন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১১ জন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ১ জন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ১ জন সরকারি নার্সিং কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। সম্প্রতি সফল শিক্ষার্থীদের এই তালিকায় আরও ১০ জন যুক্ত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তত ৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। উল্লেখ্য, গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

সরকারি মেডিকেল কলেজে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— ধনলাল ত্রিপুরা (শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ), উছাইহ্লা মারমা (সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ) এবং অংক্যসিং মারমা (মাগুরা মেডিকেল কলেজ)।
ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে মংথুইনু মারমা (চুয়েট), জিসান তঞ্চঙ্গ্যা (চুয়েট) এবং শফিকুল ইসলাম (রুয়েট)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়া শিক্ষার্থীরা হলো— লাল নেই সাং বম (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস), ওয়াইংজ্য মারমা (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স), ইয়াসিনুর রহমান পরান (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা), ওয়ারেছুল হক রিয়াদ (ফারসি ভাষা ও সাহিত্য), শৈমংসাই মারমা (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স), সৈকত উদ্দিন আহমেদ (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস) এবং জুলিনময় ত্রিপুরা (অর্গানাইজেশন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড লিডারশিপ)।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে চান্স পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী। তারা হলো— নেওয়ান চাক, অনিল তঞ্চঙ্গ্যা, মো. সজীব, সজীব কিসকো, মোছা. আয়েশা খাতুন ও মোছা. শাহনাজ খাতুন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সুযোগ পেয়েছে আরও ৪ জন— রেশমি সাঁওতাল (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), সারজিনা আক্তার (বাংলাদেশ স্টাডিজ), মোছা. লাবিবা তাজরিন (চারুকলা) এবং সজীব খিয়াং (সংগীত)।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকলোর বিভাগে চান্স পেয়েছে মো. জাহিদ হাসান। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ফুংপ্রে মুরুং এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্টমেকিং বিভাগে মংনুসিং মারমা ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। পটুয়াখালী নার্সিং ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং কোর্সে চান্স পেয়েছে কাজল চাকমা।

এর আগের বছর ২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে ২৫ জন দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল।

বর্তমানে আড়াই হাজারের বেশি শিশু-কিশোর কোয়ান্টাম কসমো স্কুল ও কলেজে পড়াশোনা করছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েরা এখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশে লেখাপড়া, মেডিটেশন, কোয়ান্টাম ব্যায়াম, খেলাধুলা, শুদ্ধাচার চর্চা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *