সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

পলাশবাড়ীতে ভুয়া মালিক সেজে ভূমি অধিগ্রহণের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পলাশবাড়ীতে ভুয়া মালিক সেজে ভূমি অধিগ্রহণের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ভাগ্নি-জামাই ভুয়া মালিক সেজে স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে মামাশ্বশুরের ভূমি অধিগ্রহণের ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পলাশবাড়ী পৌর শহরের দক্ষিণ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পলাশবাড়ী পৌরসভার হরিণবাড়ি গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে ছাইদুর রহমান। তিনি জানান, আমি অত্যন্ত দুঃখ ও ক্ষোভ নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আমার মালিকানাধীন ০.৬২৫ (শূন্য দশমিক ছয় দুই পাঁচ) শতক জমি হরিনমারী মৌজায় সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ করা হয়। উক্ত জমির এলএ কেস নং ১১/২০১৯-২০২০ এবং জারির নোটিশ নং ৫৯০১। অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ আমার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আমার ভাগ্নি-জামাই মো. শামসুল আলম, পিতা: মৃত কওছর উদ্দিন আহমেদ, গ্রাম: হরিমারী, থানা ও পোস্ট: পলাশবাড়ী, জেলা: গাইবান্ধা- আমাকে না জানিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন বলে আমি অভিযোগ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, তিনি পলাশবাড়ী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও এক দলিল লেখকের সঙ্গে যোগসাজশে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে একটি ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি তৈরি করেন। উক্ত পাওয়ার অব অ্যাটর্নিতে আমাকে অবহিত না করে এবং আমার সম্মতি ব্যতীত অন্য কাউকে আমার পরিচয়ে হাজির করানো হয়ে থাকতে পারে বলে আমার দৃঢ় সন্দেহ রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা থেকে আমার নামে ইস্যুকৃত ক্ষতিপূরণের চেক উত্তোলন করেন এবং প্রায় আঠারো লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে আমি অভিযোগ করছি।

ছাইদুর রহমান বলেন, আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, আমি কখনও কাউকে এ ধরনের পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রদান করিনি এবং ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের জন্য কাউকে অনুমতি দিইনি।

অতএব, তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নিকট জোর দাবি জানান-

১. অভিযুক্ত মো. শামসুল আলমের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
২. ভুয়া পাওয়ার অব অ্যাটর্নি প্রণয়নে জড়িত দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।
৩. তার অধিগৃহীত জমির ক্ষতিপূরণের সমুদয় অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হোক।

তিনি বলেন, আমি ন্যায়বিচার চাই। পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের মাধ্যমে আমার কষ্টার্জিত সম্পদের অর্থ যেন প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তার ছোট ভাই বখতিয়ার রহমান ও প্রতিবেশী আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *