আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে সরকারি প্রণোদনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সমন্বয়ে সরিষা চাষে ব্যাপক সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের বাস্তবায়নে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫৫০ জন কৃষকের মধ্যে ১ কেজি করে উন্নতমানের সরিষার বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিতরণ করা হয়। এর ফলে উপজেলায় প্রায় ১৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬০-৭০ বিঘা জমিতে সরিষার প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়েছে। এসব প্রদর্শনী প্লটে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সঠিক সার ব্যবস্থাপনা ও রোগবালাই দমন কৌশল প্রয়োগ করায় গাছের বৃদ্ধি অত্যন্ত ভালো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, চলতি মৌসুমে কৃষকরা মূলত বারি সরিষা-১৪, ১৫, ১৭ ও ১৮ এবং বিনা সরিষা-৯ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। মাঠ পর্যায়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এসব জাত থেকে প্রতি হেক্টরে গড়ে ১.৩ থেকে ১.৬ মেট্রিক টন ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি এবং সন্তোষজনক।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, “সরকারি প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছেন। সময়মতো বীজ ও সার সরবরাহ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার সরিষার ব্যাপক ফলনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।”
কৃষকরা জানান, স্বল্প খরচে ও কম সময়ে ফসল ঘরে তোলা যায় বলে সরিষা এখন লাভজনক ফসলে পরিণত হয়েছে। এতে কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তেলবীজ উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আরও জানান, সরিষা একটি স্বল্পমেয়াদি ও লাভজনক তেলবীজ ফসল। প্রণোদনা ও প্রদর্শনী কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এর ফলে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তেলবীজ উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ধান কাটার পর পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে বাড়তি আয় করা সম্ভব হচ্ছে। কৃষি বিভাগের এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা তেলবীজ উৎপাদনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হবে বলে তারা আশা করছেন।
এবার সরিষায় স্বপ্ন দেখছেন শ্রীমঙ্গলের কৃষকরা। সরকারি প্রণোদনা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ছোঁয়ায় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজ সরিষা গাছ আর হলুদ ফুলের সমারোহ।
এছাড়া কৃষির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ৬০-৭০ বিঘা জমির প্রদর্শনী প্লটে উন্নত জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যবহার করা হয়েছে বারি সরিষা-১৪, ১৫, ১৭, ১৮ ও বিনা সরিষা-৯ জাত।
সরিষার এই সাফল্য ভবিষ্যতে শ্রীমঙ্গল উপজেলাকে তেলবীজ উৎপাদনে আরও এগিয়ে নেবে- এমনটাই আশা কৃষি বিভাগের।

