আতাউর রহমান কাজল (শ্রীমঙ্গল): দেশের শীতলতম স্থান হিসেবে পরিচিত চা শিল্প এলাকা ও দেশের অন্যতম পর্যটন শহর শ্রীমঙ্গলে চলতি মৌসুমে তীব্র শীত নেমে এসেছে। কনকনে ঠান্ডা আর হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে শ্রীমঙ্গল। গতকাল বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা ও ৯টায় এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। তিনি আরও জানান, শ্রীমঙ্গলের ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
শহর, গ্রামাঞ্চল ও শ্রীমঙ্গলের ৪৪টি চা-বাগানজুড়ে শীতের তীব্রতা এখন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে চা-বাগানগুলোতে শীতের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ভোরবেলা কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রচণ্ড শীতে স্কুল-কলেজে যাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
হাড় কাঁপানো এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও চা-শ্রমিকরা। কাজ বন্ধ থাকলে চলে না তাদের সংসার, আবার কাজ করতে গেলেও শীতের কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই ঠান্ডা মাথায় নিয়েই রোজগারের জন্য বের হতে হচ্ছে এসব মানুষকে।
উপজেলার সাইটোলা গ্রামের অনার্সের ছাত্র ও কৃষি উদ্যোক্তা উজ্জ্বল কুর্মী জানান, তীব্র শীতে এখানকার কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি কাজ ছাড়া কৃষকরা মাঠে যাচ্ছেন না। প্রচণ্ড শীতের কারণে কৃষকরা কাজে যেতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
সন্ধ্যা হলেই রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে যায়। স্বাভাবিক জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শীত নিবারণে কেউ কেউ খড়কুটো বা আগুন জ্বালাচ্ছেন, আবার অনেকেই আশ্রয় নিচ্ছেন চায়ের দোকানে। এদিকে তীব্র শীতের কারণে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মৌমিতা বৈদ্য জানান, প্রতিদিন হাসপাতালে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা আসছেন।
ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড অনুযায়ী, শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মাত্র ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ৩.৩ ডিগ্রি, ২০০৩ সালের ২৩ জানুয়ারি ৫ ডিগ্রি, ২০০৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৫.২ ডিগ্রি, ১৯৯৫ সালের ৪ জানুয়ারি এবং ২০০৭ সালের ১৭ জানুয়ারি ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।

