বায়েজিদ, পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা): বারবার পুত্র ও পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি। থানায় মুচলেকা দিয়েও একই অপরাধে বারবার জড়িয়ে পড়ছে পুত্র ও পুত্রবধূ। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঝালিঙ্গী গ্রামে তৃতীয়বারের মতো পুত্রবধূর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক বৃদ্ধ দম্পতি।
৭ জানুয়ারি বুধবার বিকেলে বৃদ্ধ দম্পতির নিজ বাড়িতে এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। সম্পত্তি লিখে নেওয়ার পর পিতা-মাতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত নির্যাতন, অসদাচরণ এবং ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলে ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ও অভিযুক্ত সূত্রে জানা যায়, মাহাবুব ইসলাম দোলন (৭৫) ও হাসনা বেগম (৭০) দম্পতির একমাত্র সন্তান হাসানুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও একাধিকবার নিজ পুত্র ও পুত্রবধূ-স্কুলশিক্ষিকা সোমা আক্তার-বৃদ্ধ বাবা-মাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে তালাবদ্ধ করে রাখেন। বুধবার আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
বুধবার সন্ধ্যায় অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতি পলাশবাড়ী পৌর শহরে ওষুধ কিনতে যান। এই সুযোগে একমাত্র পুত্রবধূ, উপজেলার সাঁতারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সোমা আক্তার, বৃদ্ধ দম্পতির শয়নকক্ষে প্রবেশ করে তাদের ব্যবহৃত শীতকালীন বস্ত্র-লেপ, তোশক, কাঁথা, বালিশ, কম্বলসহ অন্যান্য আসবাবপত্র ঘর থেকে বের করে পানিতে ভিজিয়ে রাখেন। এরপর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
ওষুধ কিনে বাড়িতে ফিরে এ দৃশ্য দেখে বৃদ্ধ দম্পতি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তাঁদের কান্নাকাটি দেখে স্থানীয়রা জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর পেয়ে পলাশবাড়ী উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং বিষয়টি পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ ও থানার অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলমকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জাবের আহমেদ নিজেই গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং অফিসার ইনচার্জ সারোয়ার আলমকেও সেখানে ডেকে নেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে তাদের নিজ বাড়ির শয়নকক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেন এবং সকল ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপে সাংবাদিক ও স্থানীয় এলাকাবাসী ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ ঘটনায় ছেলে ও পুত্রবধূ পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
উল্লেখ্য, এর আগেও গাইবান্ধা আদালতে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইনে মায়ের দায়ের করা একটি মামলা চলাকালীন সময়ে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন হাসানুর রহমান। পাশাপাশি তিনি বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতিসহ একাধিক মামলা দায়ের করেন।
এছাড়াও এর আগে আরও দু’বার পলাশবাড়ী থানায় ছেলে ও পুত্রবধূর কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় বৃদ্ধ দম্পতিকে ঘরে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বারবার এই পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে শিক্ষিত পরিবারের এমন ঘটনায় সামাজিক ও পারিবারিক মানবিকতার অবক্ষয় নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

