সর্বশেষ :
20 Oct 2026, Tue

সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) হলেন ডা. নিয়ামুল ইসলাম

সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) হলেন ডা. নিয়ামুল ইসলাম, কালের বার্তা

মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ): স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগে কর্মরত সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা, দক্ষতা ও রোগীসেবার প্রতি গভীর প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম গত ১ ডিসেম্বর, সোমবার সহযোগী অধ্যাপক (সার্জারি) পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়ার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তিনি মাত্র দুটি শব্দে অনুভূতি প্রকাশ করেন- Alhamdulillah, Promoted as Associate Professor of Surgery.
সংক্ষিপ্ত এই পোস্টই তাঁর চারপাশের মানুষের আনন্দ, শ্রদ্ধা ও আস্থাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

গরিবের বন্ধু খ্যাত ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবায় এক পরিচিত মানবিক মুখ। রোগী দেখার সময় তাঁর ব্যবহারে যে আন্তরিকতা ও ধৈর্য থাকে, সেটাই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। সহকর্মীরা বলেন, তিনি সিদ্ধান্ত নেন ঠান্ডা মাথায়, রোগীকে বোঝান সহজ ভাষায় এবং চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে রোগীর স্বস্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন। তাই সার্জারির মতো জটিল বিভাগেও তাঁর ব্যস্ততা কখনো যান্ত্রিক হয়ে ওঠে না; বরং আরও মানবিক হয়ে ওঠে।

তিনি রাজবাড়ী থেকে প্রাথমিক, এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করে ২০০১ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে স্নাতক (এমবিবিএস) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২৪তম বিসিএসের মাধ্যমে ২০০৫ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। এরপর থেকে চিকিৎসা বিষয়ে একের পর এক উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে নিজেকে সার্জিক্যাল সায়েন্সে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তাঁর অর্জিত ডিগ্রিগুলো হলো- এফসিপিএস (সার্জারি), এমআরসিএস (লন্ডন), এমআরসিএস (এডিনবার্গ), ডিএমইউ (বিআইএইচএস), বিসিএস (স্বাস্থ্য), পিএসসি (শ্রীলংকা), এফএসিএস (আমেরিকা), এফআইএসসিপি (ভারত), সিসিডি (বারডেম)সহ আরও বেশ কিছু উচ্চতর যোগ্যতা।

বিগত এক যুগে তাঁর কাজের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো মানবিক সেবার মানসিকতা। দরিদ্র রোগীদের ক্ষেত্রে তিনি প্রায়ই ভিজিট নেন না, ফোনে পরামর্শ দেন, আবার জরুরি প্রয়োজন হলে নিজেই সময় বের করে রোগী দেখেন। সহকর্মীরা জানান, তিনি কাউকে ফিরিয়ে দেন না- এটাই তাঁর স্বভাব।

স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে যোগদানের পর তাঁর দায়িত্ব আরও বেড়েছে। অপারেশন থিয়েটার, ওয়ার্ড, একাডেমিক ক্লাস- সর্বত্রই তিনি সমান মনোযোগ দিয়ে কাজ করেন। জুনিয়র চিকিৎসকেরা বলেন, তাঁর কাছ থেকে শুধু সার্জারি নয়, পেশাদার নৈতিকতাও শেখা যায় সবচেয়ে বেশি।

এবার সহযোগী অধ্যাপক পদোন্নতির মাধ্যমে তাঁর সামনে দায়িত্বের পরিসর আরও বিস্তৃত হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া, ভবিষ্যৎ সার্জনদের গড়ে তোলা এবং রোগীসেবার মান উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে তাঁর সামনে।

ডা. নিয়ামুল ইসলাম বলেন, মানুষের সেবা করার সুযোগ পাই- এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। আল্লাহ যেন আমাকে সবসময় সৎভাবে কাজ করার তৌফিক দেন।

সহকর্মীদের মতে, রোগীসেবা, পেশাগত একাগ্রতা ও মানবিকতার যে সমন্বয় তিনি বহু বছর ধরে বজায় রেখে এসেছেন, এই পদোন্নতি তারই স্বাভাবিক পরিণতি।

এর আগে ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তারও আগে তিনি কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্জারি বিভাগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গরিবের বন্ধু হিসেবে পরিচিত এই মানবসেবক দুনিয়া কাঁপানো করোনা মহামারির সময়ে জীবন-মরণ ঝুঁকি নিয়ে অগণিত মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন।

ডা. নিয়ামুল ইসলাম রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড়লক্ষীপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. আবদুর রহমান বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা ছিলেন।
পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। শৈশব-কৈশোর কেটেছে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বড়লক্ষীপুর গ্রামেই।

ব্যক্তিজীবনে তিনি দুই পুত্র সন্তানের জনক। নিজেকে মানবসেবায় নিয়োজিত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেছেন গরিবের বন্ধু ডা. মো. নিয়ামুল ইসলাম।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *