গাইবান্ধা (গোবিন্দগঞ্জ): সুদের টাকার দাবিকে কেন্দ্র করে এক নারীকে বেদম মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছাঃ জাহানারা বেগম (৩৭) গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মোছা. জাহানারা বেগম (৩৭), স্বামী- মো. রফিকুল ইসলাম, গ্রাম- বালুভড়া, গুমানীগঞ্জ ইউনিয়ন।
অভিযুক্ত মো. আব্দুর রশিদ (৪০), পিতা- মো. আজিজুল ইসলাম, একই গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগে তাকে ‘কুখ্যাত দাদন ও সুদ ব্যবসায়ী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় এক বছর আগে জাহানারা বেগম অভিযুক্ত আব্দুর রশিদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা কর্জ নেন। মূল টাকা পরিশোধের পরও রশিদ সুদ বাবদ আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগী বাধ্য হয়ে ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও অভিযুক্ত পুনরায় অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।
দাবিকৃত টাকা না পেয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ বুধবার (১২ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে জাহানারা বেগমের বাড়ির উঠানে এসে তাকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করে বেদম মারধর করেন। একপর্যায়ে হাতে থাকা পাচুনের ঘাড়ি (লাঠি/ডাণ্ডা) দিয়ে তার বাম হাতে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। এতে জাহানারা বেগম মাটিতে পড়ে যান এবং তার শ্লীলতাহানি ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
জাহানারা বেগমের চিৎকার শুনে তার পুত্রবধূ মোছা. হীরা বেগম (২০) ও মেয়ে মোছা. রুপা আক্তার (১৬) এগিয়ে এলে অভিযুক্ত তাদেরও মারধর করেন। এ সময় হীরা বেগমের গলা থেকে ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও হাতে থাকা Infinix অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন (আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১১ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
আহত জাহানারা বেগম ও তার পুত্রবধূ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম, মোছা. রহিমা বেগম ও মো. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
ভুক্তভোগী জাহানারা বেগম এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

