সর্বশেষ :
19 Oct 2026, Mon

শীত আসার আগেই ফুলকপি চাষে লাভের মুখ দেখছেন দিনাজপুরের কৃষকরা

শীত আসার আগেই ফুলকপি চাষে লাভের মুখ দেখছেন দিনাজপুরের কৃষকরা, কালের বার্তা

আব্দুস সালাম (দিনাজপুর): শীত এখনও পুরোপুরি জেঁকে বসেনি, কিন্তু তার আগেই দিনাজপুরের কৃষকের মাঠে শুরু হয়েছে এক নতুন সবুজ বিপ্লব। কে আগে বাজারে আগাম সবজি তুলতে পারবেন- তা নিয়ে ফসলের মাঠে চলছে এক নীরব প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে রয়েছে শীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সবজি- আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি, যা এখন কৃষকের কাছে ‘সাদা সোনা’র মর্যাদা পাচ্ছে। অল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় এই আগাম চাষ বহু কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

দিনাজপুরের বিভিন্ন গ্রাম-কাহারোল, বীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় এখন আগাম ফুলকপির রাজত্ব। এই চাষের লাভজনক চিত্র তুলে ধরেছেন কাহারোলের রাঙ্গাচাটা হাট এলাকার কৃষক লিয়াকত।

তিনি জানান, আগাম সবজি চাষ করা কষ্টসাধ্য হলেও লাভ দ্বিগুণ হয়। এবার চারার দাম কিছুটা বেশি থাকায় প্রতি বিঘা জমিতে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তবে খরচ বাদ দিলে প্রতি বিঘায় ১ লাখ টাকারও বেশি লাভ হচ্ছে।

নভেম্বর মাসে বিয়ে, অনুষ্ঠান ও দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় ফুলকপি-বাঁধাকপির ব্যাপক চাহিদা থাকে। এই সময়ে বাজারে আসা আগাম সবজি আশানুরূপ দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এখন এই সবজি সরবরাহ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়।

বীরগঞ্জের কৃষক মাহাবুব ও আইনুল জানান, তাঁরাও আগাম ফুলকপি চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। অন্যদিকে, একই উপজেলার কৃষক নুরুজ্জামান জানান, তিনি ‘মার্বেল’ ও ‘আর্লি স্পেশাল’ জাতের বীজ ব্যবহার করে ৫ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। চারা রোপণের মাত্র ৪৫–৫০ দিন পর থেকেই তিনি সবজি বিক্রি শুরু করেন। অক্টোবরের শেষ দিক থেকে বাজারে এই সবজি ওঠায় অনেকে ইতিমধ্যেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

সাধারণত শীতকালীন সবজি দেরিতে বাজারে আসে, ফলে সরবরাহ বেড়ে গেলে দামও কমে যায়। কিন্তু নভেম্বরের শুরুতেই সবজি বাজারে আনার কৌশল কৃষকদের প্রথম দিকেই উচ্চ মূল্য নিশ্চিত করছে। এটি শুধু পুঁজির ঘাটতি পূরণই নয়, বরং দ্বিগুণ লাভের সুযোগ তৈরি করছে।

চামদুয়ারী গ্রামের কৃষক মুহাম্মদ আলীর মতো অনেক কৃষকই এখন বলছেন, আগাম জাতের সবজি চাষই তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে।

By barta24

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *