ঢাকা: ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার ও মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর মানব পাচার মামলার প্রধান আসামি রুবেল ইসলাম (৩০)-কে ময়মনসিংহের পাগলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-১০ ও র্যাব-১৪ এর যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানাধীন চরমস্তপুর এলাকায় একটি মানব পাচারের ঘটনা ঘটে। এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রুবেল ইসলামকে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভোর রাত আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহ জেলার পাগলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্ত অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে রুবেল ইসলাম (৩০) সহ অন্যান্য আসামিরা ভিকটিম মাসুদ মাতুব্বর (৩২)-কে ২২ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতারণার মাধ্যমে আসামিরা ভিকটিমকে প্রথমে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দুবাই এবং পরবর্তীতে দুবাই থেকে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাঠায়।
লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর আসামিরা ভিকটিমকে ইতালিতে না পাঠিয়ে অজ্ঞাত মাফিয়া চক্রের সদস্যদের মাধ্যমে আটক করে রাখে এবং তার ওপর নির্যাতন চালায়। তারা নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমের পরিবারের কাছে পাঠায় এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রথমে ৮ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
ভিকটিমের পরিবার জীবন বাঁচাতে বিভিন্ন সময়ে নগদ ও ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৯৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আসামিদের প্রদান করে। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও ভিকটিমকে মুক্তি না দিয়ে আসামি রুবেল ইসলামসহ অন্যান্যরা পুনরায় পরিবারের নিকট আরও ৭ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করতে থাকে।
এই ঘটনায় ভিকটিমের মা মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং- ০৯, তারিখ- ০৭/১১/২০২৫ খ্রি., ধারা- ৬/৭/৮/১০ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২)।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে র্যাব-১০ আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৪ এর সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রুবেল ইসলাম (পিতা- আব্দুল সোবহান, সাং- নিগুসারী, থানা- পাগলা, জেলা- ময়মনসিংহ)-কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

