বান্দরবান: বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১ জন অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে গ্রেপ্তার করেছে উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (০৩ নভেম্বর) দুপুরে লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের মালুম্যা, বগাইছড়ি এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানকালে একটি সবুজ রঙের মিতসুবিশি (Mitsubishi) স্কেভেটর নদীর পাশের মাটি কর্তন করা অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ সময় সেখানে মো. কামাল উদ্দিন নামক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তিনি স্কেভেটর দিয়ে নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে এমন জায়গা থেকে মাটি কর্তনের অভিযোগ স্বীকার করেন।
আসামি মো. কামাল উদ্দিনকে ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারা’ মোতাবেক ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুবাইয়াত আহমেদ।
স্থানীয়রা জানান, এখনো আওয়ামী লীগের দলীয় কিছু প্রভাবশালী লোকজন এই পরিবেশ ধ্বংসের সাথে জড়িত। জানা যায়, লামা উপজেলায় ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতা মহরম আলী, ছাত্রলীগ নেতা শাহারিয়া, যুবলীগ নেতা আলা উদ্দিন, আব্দুস শক্কুর, রমজান আলী, আবুল হোসেন, জসিম ড্রাইভার, কালু সহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী একাধিক ব্যক্তি বেপরোয়া বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। এছাড়া ধরাছোঁয়ার বাইরে বালুদস্যু ভুট্টো।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বিটের সংরক্ষিত বনের ভেতর চলছে পরিবেশবিধ্বংসী অপতৎপরতা। সংরক্ষিত বনে শক্তিশালী ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে তোলা হচ্ছে অবৈধ বালু। আর এ বালু উত্তোলনে রয়েছে স্থানীয় বালুদস্যু ভুট্টোর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। মাসে প্রায় কোটি টাকার বালু বিক্রি করে কয়েকটি পয়েন্ট থেকে, বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন নীরব ভূমিকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, এই উপজেলায় সরকারিভাবে কোনো বালু মহাল নেই। কিন্তু থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বগাইছড়ি খাল থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে নিজেদের ইচ্ছামত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হোসাইন মামুন বলেন, আগে শুধু আওয়ামী লীগের লোকজন অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত ছিল, আর এখন বিএনপি-আওয়ামী লীগ মিলে এই অবৈধ বালু উত্তোলন করে। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে কিছুদিন আগে বগাইছড়ি থেকে ছাগল্লা ঝিরি এলাকায় যাতায়াত করার জন্য বগাইছড়ি খালের উপর নির্মিত বেইলি সেতু ভেঙে কিছুই নেই।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে ১ জনকে আটক করা হয়। আটককৃত ১ জনকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। লামায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা, পাথর ও বালু উত্তোলনে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে প্রশাসন জিরো টলারেন্সে। এই অভিযান চলমান থাকবে।

