পঞ্চগড়: পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় লাউ ক্ষেত থেকে তনজিনা আক্তার (৩৫) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের ধামোর মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দিলু হোসেন (৫০) নামের একজনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। তনজিনা আক্তার ওই গ্রামের চাল ব্যবসায়ী মৃত মজিবর রহমানের স্ত্রী এবং তার দুই ছেলে সন্তান রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তনজিনার স্বামী চাল ব্যবসায়ী মজিবর রহমান গত এক বছর আগে মারা যান। কয়েক মাস পর একই গ্রামের দিলু হোসেনের ছোট ছেলে মিনাল (২৭) এর সঙ্গে তনজিনা সম্পর্কে জড়ান। পরে গত দুই মাস আগে মিনাল ও তনজিনা গোপনে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে তারা উপজেলার মির্জাপুর বাজারে এক ভাড়া বাসায় থাকতে শুরু করেন। বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য মিনালের পরিবার তাকে চাপ দিতে থাকে। তনজিনার বড় ও ছোট ছেলেকে মিনালের বড় ভাই মিজানুর রহমান (৩০) বিভিন্ন সময় নানা রকম হুমকি দিচ্ছিলেন বলে জানা যায়।
এরই জেরে গত বৃহস্পতিবার মিনালের বড় ভাই মিজানুর তনজিনার বড় ছেলেকে দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। ছেলের কথা ভেবে তনজিনা বিয়ে বিচ্ছেদ করাতে বাধ্য হন। পরে মিজানুর তনজিনার বড় ছেলে তৌহিদুলকে নিয়ে পঞ্চগড় আদালতে যান এবং মিনাল তনজিনাকে নিয়ে আসেন। সেদিনই আদালতে তাদের বিচ্ছেদ হয়। ওই দিন রাতেই তনজিনার বাসায় পুলিশ যায়। পুলিশের বরাতে স্থানীয়রা জানতে পারেন, তনজিনা জরুরি সেবা-৯৯৯-এ কল দিয়ে অভিযোগ করেন যে তাকে কোনো এক অন্ধকার জায়গায় আটকে রেখে মিনাল চলে গেছেন। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
সোমবার সকালে ধামোর মধ্যপাড়া এলাকার জাহিরুল ইসলামের লাউ ক্ষেতে কয়েকজন লাউ তুলতে এসে একজনের মরদেহ দেখতে পান। কাছে গিয়ে তনজিনার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তারা স্থানীয়দের ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে বারঘাটি তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ও আটোয়ারী থানার পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে।
বারঘাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা তথ্য পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে আটোয়ারী থানা পুলিশসহ মরদেহ উদ্ধার করি। কি কারণে মারা গেছেন, তা জানার জন্য মরদেহ পঞ্চগড় সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

