নবাবগঞ্জ (ঢাকা): ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জুয়েল নামে এক প্রবাস ফেরত যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রী ঝুমানা আক্তারের বিরুদ্ধে। রোববার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রাম থেকে জুয়েলের দ্বগ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী ঝুমানা আক্তারকে আটক করা হয়েছে। নিহত জুয়েল নয়ানগর গ্রামের মৃত আজহার উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর আগে বাহরাইন প্রবাসী জুয়েলের সঙ্গে ঝুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে ছয় বছর বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। জুয়েল বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকেই স্ত্রী ঝুমানা আক্তার পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করে পরিবার। প্রায় দুই মাস আগে জুয়েল দেশে ফেরার পর থেকেই স্ত্রীর পরকীয়া ও উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক কলহ চলছিল।
রোববার রাতে প্রতিবেশীরা জুয়েলের বসতঘর থেকে ধোঁয়া এবং চিৎকার শুনতে পেয়ে দ্রুত এগিয়ে আসেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে খাটের ওপর থেকে জুয়েলের দ্বগ্ধ লাশ উদ্ধার করেন।
নিহতের পরিবার ঘটনাস্থলে অভিযোগ করে বলেন, ঝুমানা বেগম তার সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জুয়েলকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেছেন। এরপর হত্যার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তারা জুয়েলের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেন। নিহতের পরিবার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে স্ত্রী ঝুমানা ও তার সহযোগীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল ও আলামত পর্যবেক্ষণ করে মনে হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হত্যাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যেই আগুন লাগানো হয়েছিল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্ত্রী ঝুমানা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা এলাকায় গভীর শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

