আমাদের সবার হৃদয়ে একই স্বপ্ন- একটি সোনার বাংলা, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের শাসন, যেখানে মানুষ পাবে সঠিক বিচার এবং থাকবে না কোনো ভেদাভেদ। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যা হবে দুর্নীতি, অনিয়ম, ছিনতাই ও ঘুষমুক্ত ব্যবস্থা। আমরা এমন এক দেশের কল্পনা করি, যেখানে দলীয়করণ নয় বরং আইনের চোখে সবাই সমান। সুন্দর ও সম্মানজনক সহাবস্থানই আমাদের কাম্য।
কিন্তু বাস্তবে আমরা নিজেদের কার্যকলাপের দিকে তাকালে কি এই স্বপ্নের প্রতিফলন দেখতে পাই? যখনই কোনো আইন বা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার প্রয়োজন হয়, তখন কি আমরা সেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে গণতান্ত্রিক পন্থায় আলাপ-আলোচনা বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান খুঁজি? নাকি আমরা সেই আইনের বিরুদ্ধেই নেমে পড়ি মানববন্ধন, বিক্ষোভ, মিছিল ও প্রতিবাদে?
এ এক চরম স্ববিরোধিতা। একদিকে আমরা চাই দেশে আইন প্রতিষ্ঠা হোক, অন্যদিকে সেই আইন ও নিয়মের বিরুদ্ধেই আবার রাস্তায় নেমে পড়ি। প্রশ্ন জাগে, আমরা আসলে কী চাই?
উত্তরটা হয়তো আমাদের অনেকেরই অজানা, অথবা জানলেও আমরা তা মানতে চাই না। আমাদের এই আচরণে যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে- আমরা আসলেই এক হুজুগে বাঙালি। কী হচ্ছে, কেন হচ্ছে, এর ভালো-মন্দ দিক কী- সেসব গভীরভাবে না ভেবেই আমরা অপরের কথায় বা আবেগের বশে নেচে উঠি। যুক্তি, কারণ আর ভবিষ্যতের পরিণতি বিবেচনার চেয়ে তাৎক্ষণিক উত্তেজনা ও লোক দেখানো প্রতিবাদে অংশ নিতেই আমরা বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করি।
এই হুজুগপ্রবণতাই আমাদের দেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আমরা নিজেদের বিচার-বিবেচনাকে শাণিত না করে, ভালো ও মন্দের বিচার না করে, অন্যের ভাবনার রথে চেপে চলি। যতদিন আমাদের বিবেক সুবুদ্ধি লাভ না করবে, যতদিন না আমরা আবেগ ও হুজুগ থেকে বেরিয়ে এসে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হব- ততদিন আমাদের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন কেবল স্বপ্নই থেকে যাবে।
একদিন নিশ্চয়ই সেই সময় আসবে, যখন জাতি হিসেবে আমরা পরিপক্ব হব। সেদিনই সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে শুধু বক্তৃতায় নয়, আমাদের সম্মিলিত দৈনন্দিন আচরণেও তা স্পষ্ট হবে।
-মো. শাহাদাত হোসেন
প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক
পিস ওয়ে হিউম্যান রাইটস্ সোসাইটি
দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলা শাখা।

