নবাবগঞ্জ (ঢাকা): শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দ ফিকে করে দিলো এক মর্মান্তিক ঘটনা। বাজারে যাওয়ার বাহাত্তর ঘণ্টা (৫২ ঘণ্টা) পর ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার যন্ত্রাইল ইউনিয়নের ছোট গোবিন্দপুর গ্রামে পুকুর থেকে সুচিত্রা সরকার (৫২) নামের এক গৃহবধূর গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মেয়ে-জামাই বাড়িতে আসবে বলে বাজার করতে গিয়েছিলেন ওই গৃহবধূ। নিখোঁজের দু’দিন পর লাশ পাওয়ায় এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ করছে পরিবার ও স্বজনরা।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মেয়ে-জামাইয়ের আগমনের জন্য বাজার করতে গত রোববার (৯:৩০ মিনিট উল্লেখ আছে) সকাল সাড়ে ৮টায় বাড়ি থেকে বের হন গৃহবধূ সুচিত্রা সরকার। এর ঠিক ৫২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির কাছে দুর্গা মন্দির সংলগ্ন একটি পুকুরে তাঁর লাশ ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
নিহত সুচিত্রার স্বামী রামচন্দ্র মন্ডল ওইদিনই নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। নিখোঁজের দু’দিন পর লাশ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের দৃঢ় বিশ্বাস, সুচিত্রাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহতের বোন শিখা মন্ডল কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, বোনের কানে ও গলায় স্বর্ণের গহনা ছিল। দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে সব নিয়ে গেছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে দ্রুত শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দিলীপ হালদার জানান, ঘটনাস্থলের চারদিকে কোনো রাস্তা নেই। বাঁশঝোপ থাকায় অপরাধীরা হয়তো সুচিত্রাকে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয়।
এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বাড়ির উঠোনে অঝোরে কাঁদছেন মেয়ে শ্রাবন্তী সরকার। স্বজনরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুরো মহল্লাজুড়ে যেন শোকের মাতম। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা শ্রাবন্তীর চোখ যেন দুর্গাপূজার অষ্টমীর দিনে শুধু মাকেই খুঁজছে। নিহত সুচিত্রার একমাত্র ছেলে প্রবাসে থাকেন।
নবাবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মমিনুল ইসলাম জানান, লাশটি গলিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক ধারণা, গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হতে পারে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিয়েছে। ওসি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যার ধরণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

